নরেন্দ্র মোদীর নৌকার মাঝি চাইছেন মমতাকেবাংলায় ভোটের প্রচার করতে এসে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে নৌকায় চড়িয়েছেন মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর নৌকায় চেপেছেন, এ যেন এখনও তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, এমনটা ঘটেছে। তবে সেই গৌরাঙ্গই কিন্তু চাইছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যনন্ত্রী থাকুন। bangla.aajtak.in-কে নিজের মনের কথা জানিয়েছেন বাংলার এই মাঝি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা-৭টা। হঠাৎ ২ জন এসে গৌরাঙ্গ বিশ্বাসকে বলেন, ২টো নৌকা লাগবে। মাঝি বলেন, 'মোট ৭টা নৌকা চাওয়া হল। প্রথমে বুঝতে পারিনি। তারপর দেখি ঘাটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাবতেই পারিনি উনি সাধারণ মানুষের মতো আমার নৌকাতে উঠবেন। এখনও বিশ্বাস করতেই পারছি না।' নরেন্দ্র মোদী মিনিট ৪০ ঘোরেন গৌরাঙ্গর নৌকায়। মাঝ নদীতে তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ।
হুগলীর বলাগড়ের বাসিন্দা গৌরাঙ্গর মাসে রোজগার নিতান্তই কম। শীতকালে কিছুটা বেশি হলেও ইদানিং দৈনিক এক ২০০-৩০০ টাকার বেশি হাতে আসে না। প্রধানমন্ত্রীকে নৌকাবিহার করিয়ে অবশ্য হাজার টাকা রোজগার হয়েছে। তিনি নিজে হাতে করে টাকা না দিলেও টাকা পৌঁছে গিয়েছে মাঝির কাছে। যদিও তারপর থেকে একের পর এক মিডিয়া ইন্টারভিউ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাতারাতি 'সেলেব' হয়ে ওঠা এই মাঝি। ফলে নৌকা চালাতেও পারেনি দিনভর। বাড়িতে স্ত্রী-পুত্র ও পুত্রবধূ রয়েছে তাঁর। মোদী তাঁকে জড়িয়ে যে ছবি তুলেছিলেন, সেটিও দেখেছেন সকলে।
রাজনীতি তেমনটা না বুঝলেও ভোট অবশ্যই দিতে যাবেন গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নৌকায় চড়ায় কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়লেও এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চাইছেন তিনি। গৌরাঙ্গ বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকবার এখানে এসেছেন। আগে উনি হাঁটতে আসতেন। আমরা মাঝিরা এখানে থাকতাম। আমাদের সঙ্গে দেখা করে নমস্কার জানিয়েছেন। এখন যদি উনি এসে আমার নৌকায় চড়েন, না বলতে পারি নাকি!' তাঁর সংযোজন, '২৯ তারিখ ভোট আমাদের ওখানে। একদিন আগে বাড়ি যাব। তবে ভোটের হাওয়া তৃণমূলের দিকেই রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আমাদের রাজ্য চালাচ্ছেন, উনিই থাকুন। উনিই থাকবেন।'