নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই দৃশ্য মাছ-ভাতের মতো ঝালমুড়িও এখন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। নেপথ্যে রয়েছে ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ির খাওয়া। কনভয় থামিয়ে ঝাড়গ্রামে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ঝাল এবং পেঁয়াজ দিয়ে মাখা ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তারপর থেকেই শোরগোল পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। প্রথম দফার নির্বাচনে কৃষ্ণনগরে প্রচার মঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গই তোলেন মোদী। তিনি বলেন, 'শুনেছি আমার ঝালমুড়ি খাওয়া কিছু লোককে ব্যাপক ঝটকা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেলাম আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।'
তৃণমূল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে বলে ফের হুঙ্কার দেন মোদী। সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন,'এখানে তো দেখছি, তৃণমূলের বিধায়ক, মন্ত্রী, স্থানীয় নেতা আর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এত রাগ রয়েছে মানুষের, একাধিক জেলায় তৃণমূলের খাতাও খুলবে না। প্রত্যাশা নিয়েই বলছি, বাংলায় এত বার ভোট প্রচারে এসে মা-বোনেদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখেছি, তাতে স্পষ্ট তৃণমূলের যাওয়া নিশ্চিত।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'কিছুদিন আগে অসম, কেরলম ও পণ্ডীচেরিতেও ভোট হয়েছে। সেখানেও রেকর্ড ভোট হয়েছে। আগে দেশে যেখানেই অবাধ ভোট হয়েছে, সেখানে BJP জিতেছে। ৪ মে বাংলাতেও BJP-র বিজয়ের উৎসব হবে। মিষ্টিও বিলোনো হবে। আর ঝালমুড়িও দেওয়া হবে।'
রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পকেট থেকে ১০ টাকা বার করে দামও মিটিয়েছেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিও পোস্টও করেন। মোদীর এই ‘মুড়ি পে চর্চা’-কে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার দাবি, ঝালমুড়ি কিনে খাওয়া এবং খাওয়ানোর বিষয়টি মোদীর ‘নাটক’। আগে থেকে দোকানে ক্যামেরা এবং মাইক বসানো ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা SPG-ই ঝালমুড়ি তৈরি করে দিয়েছে।