নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বহু আলোচিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই বিলের সঙ্গেই মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জড়িয়ে ছিল। আর সেটাই পাশ করাতে পারল না কেন্দ্র।
সেই দিন ভোটাভুটিতে সরকার পক্ষের ঝুলিতে পড়ে ২৭৮টি ভোট। বিপক্ষে পড়ে ২৩০ ভোট।
আর এহেন হারের সম্মুখীন হওয়ার পরই দেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। নিজের ভাষণে তিনি বিরোধীদের নারী বিরোধী বলে দাগিয়ে দেন।
মাথায় রাখতে হবে, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র। এই বিলের মধ্যে ছিল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। প্রথমত, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা। দ্বিতীয়ত, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা। তৃতীয়ত, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংশোধন আনা।
মাথায় রাখতে হবে, এই ভোটাভুটিতে হারের পরই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে সব বিরোধী দলকে নারী বিরোধী বলে দাগিয়ে দিয়েছেন মোদী। সেই মতো বাংলার ভোটের আগে এই ইস্যুকে কাজে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে বিজেপি। তারা এখন থেকেই তৃণমূল সরকারকে নারী বিরোধী বলে আক্রমণ শুরু করেছে। গেরুয়া বাহিনীর বড়, মাঝারি বা ছোট নেতাদের মধ্যেও একই সুর।
যদিও প্রথম থেকেই এই দাবি মানতে চায়নি তৃণমূল। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, মহিলা সংরক্ষণ এখনই লাগু করে দিতে পারে বিজেপি। শুধু ডিলিমিটেশন নিয়েই আপত্তি রয়েছে তাদের। এছাড়া তৃণমূলের মধ্যে যে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বিজেপির থেকে বেশি, সেটাও দাবি করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, ভোটের আগে তৃণমূলকে কি নারী বিরোধী বলে দাগিয়ে দিতে পারবে বিজেপি? তৃণমূলের মহিলা ভোট কি এতে ঘুরে যাবে গেরুয়া শিবিরের দিকে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'না, ভোট বাক্সে এর কোনও প্রভাবই পড়বে না।'
নিজের কথার সাপেক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলায় পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ থেকে মিউনিসিপ্যালিটি, এই সব ক্ষেত্রে মহিলাদের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। অনেক মহিলাই এই সব জায়গায় একবারে শীর্ষস্থানে বসে রয়েছে। পাশাপাশি এই সরকার আসার পর থেকেই একাধিক নারীমুখী প্রকল্প চালায়। তাই খুব সহজে যে তৃণমূলকে মহিলা বিরোধী বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে, এটা মনে করেন না উদয়ন।
উল্টে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যেভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে বিরোধীদের নিশানা করলেন, এটা নীতি বিরোধী কাজ। তিনি বিলটা নিয়ে বলতেই পারতেন। কিন্তু তিনি যেভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, সেটা কাম্য নয়। তিনি বিজেপি নেতা হিসেবে এই কাজটা করতেই পারতেন। বিজেপির মঞ্চ ব্যবহার করে করতেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই কাজটা করা ঠিক হয়েছে বলে মনে করি না।'
এছাড়া উদয়নের দাবি, কোনও বিরোধী দলই মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধিতা করেনি। শুধু ডিলিমিটেশনের বিরোধিতার কথা বলা হয়েছে। তাই মানুষ যে খুব সহজে তৃণমূলকে মহিলা বিরোধী বলে মেনে নেবে, সেটা মনে করেন না তিনি।
যদিও বিজেপির দাবি অবশ্যই আলাদা। তারা মনে করছেন, তৃণমূল মহিলা বিরোধী। তাই এই বিলের বিরোধিতা করেছে। আর এই বার্তাটাই তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। সেই মতো কাজও শুরু করে দিয়েছেন। এখন দেখার এর ফল আদৌ মেলে কি না।