রিচা ঘোষ ও নরেন্দ্র মোদীকিছুদিন আগেই ভারতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন রিচা ঘোষ। শিলিগুড়িতে ভোট প্রচারে গিয়ে সেই রিচার সাফল্যের কথাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর লম্বা লম্বা ছক্কা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বকাপ জেতার পর, ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার সময় সেই মুগ্ধতার কথা গোপন করেননি প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে রিচার নামই শোনা গেল মোদীর মুখে। নির্বাচনী ইসতেহারে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতিতে বলসা হয়েছে, উত্তরবঙ্গে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়বে বিজেপি সরকার। সে কথাই ফের মনে করিয়ে দিলেন মোদী। তিনি বলেন, 'এখানকার মেয়েরা খুব প্রতিভাবান। সেটা আমি জানি। মান্তু ঘোষের প্রতিভা আমাদের দেশকে অনেককিছু দিয়েছে। আর এখন তো রিচা ঘোষ খুব বিখ্যাত। এত লম্বা লম্বা ছক্কা মারে যা অবিশ্বাস্য। আমি যখন রিচার সঙ্গে দেখা করি, তখন ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। বিজেপি বাংলার সমস্ত মেয়েদের মধ্যে এমনই আত্মবিশ্বাস দেখতে চায়।'
খেলো ইন্ডিয়া নিয়ে মুখ খোলেন মোদী। তিনি বলেন, 'গোটা রাজ্যের মেয়েদেরই এমন প্রতিভার বিকাশে সাহায্য করবে বিজেপি সরকার। সে কারণেই বিজেপি সরকার খেলো ইন্ডিয়া চালু করেছে। অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিমও চালু হয়েছে। যাতে ঘরের পাশেই ভাল ট্রেনিং পরিষেবা পাওয়া যায়।' আমরা চাই বাংলার ছেলে-মেয়েরাও চুটিয়ে খেলাধুলো করুক। আর সে কারণেই বাংলার বিজেপি উত্তরবঙ্গে আপনাদের জন্য একটা স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।' তৃণমূলকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তবে তৃণমূলের নির্মম সরকার এখানে মহিলাদের বেড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে চায়। তৃণমূল এখানে শুধু মেয়েদের নয়, তাদের মা বাবাদেরকেও ভয়ের মধ্যে রেখেছে।'
বিশ্বকাপ জেতার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে গোটা দলকে আমন্ত্রণ জানান। রিচা সহ গোটা বিশ্বকাপজয়ী দল সেখানে উপ্সথিত ছিল। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, রিচা, আপনি তো ম্যাচ খেলছেন সেটিই জিতিয়ে ফিরছেন। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এমনটা? ছক্কা হাঁকানোর সুযোগ সর্বদাই পেয়ে যান রিচা।' লাজুক মুখে রিচার জবাব, হয়তো তাই, কারণ অনুর্ধ্ব ১৯, WPL এবং সিনিয়র দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি। সে খেলাগুলো আমরা জিতেছি।' পাশ থেকে হরলীন কউর দেওল বলে ওঠেন, 'রিচা অনেক লম্বা লম্বা ছক্কা মারে।'
রিচা বলেন, 'প্রতিটা ম্যাচেই হ্যারিদি, স্মৃতিদি, অমল স্যর আমার উপর ভরসা করেছেন। এমন এমন মুহূর্ত এসেছে যখন হয়তো বল কম রয়েছে আর রান তুলতে হবে দ্রুত তখন ওরা আমার পারফর্ম্যান্সে ভরসা রেখেছেন। সে কারণেই হয়তো আমিও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। আর আমরা জিতেছি। এটা অনেক বড় পাওনা।'