ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে নরেন্দ্র মোদী 'আমরা মাছ-মাংস খাব কী না, সেটাও ওরা ঠিক করে দেবে।' একদিকে, তৃণমূলের তরফে লাগাতার এই প্রচার চলছে। অন্যদিকে, BJP-র প্রার্থীরা এই ন্যারেটিভ ভাঙতে কখনও মাছ কিনছেন আবার কখনও মাছ দিয়ে ভাত মেখে খেয়েও ফেলছেন। এ সবের মাঝেই এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় প্রচারের শেষ লগ্নে এসে পুজো দিলেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে। ৩০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে মা কালীকে নিবেদন করা প্রসাদ সম্পূর্ণ আমিষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রবিবার দিনভর প্রধানমন্ত্রী কলকাতার যে যে এলাকায় ভোটের প্রচার করলেন, তার মধ্যে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি দর্শনের আগে উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া ঠাকুবাড়িতেও গিয়েছিলেন তিনি। মতুয়া কমিউনিটি BJP-র অন্যতম শক্ত ভোটব্যাঙ্ক বলেই মনে করা হয়। কমপক্ষে ৫০টি কেন্দ্রে এই মতুয়া কমিউনিটির প্রভাব রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র বাংলাদেশ লাগোয়াও।
এদিকে, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি কলকাতার অন্যতম একটি পুরনো মন্দিরে, যেখানে আজও ঘটা করে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় মা কালীকে। এখানে মা কালী পুজিতা হন মা সিদ্ধেশ্বরী রূপে। কথিত আছে, ব্রহ্মানন্দ কেশব চন্দ্র সেনের সুস্থতা কামনা করে এই মা সিদ্ধেশ্বরীকে ডাব চিংড়ি নিবেদন করেছিলেন খোদ রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তারপর থেকেই আমিষ ভোগ দেওয়ার রীতি শুরু হয় ঠনঠনিয়ায়। শ্যামপুকুরে থাকাকালীন ঠাকুর রামকৃষ্ণ নিজে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন তাঁর সুস্থতা কামনা করেও ভক্তরা মা সিদ্ধেশ্বরীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করেছিলেন।
১৭০৩ সালে স্থাপিত হয় এই মন্দির। জাগ্রত এই মা কালীর মন্দির থেকে ভক্তরা কখনও খালি হাতে ফেরেন না বলেই বিশ্বাস রয়েছে। কলকাতার আত্মার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এই মন্দির।
মাঝে মাঝেই এই মন্দিরে চলে আসতেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। মন্দিরের ভিতর একটি অংশে খোদাই করে লেখা রয়েছে, 'শঙ্করের হৃদয় মাঝে, কালী বিরাজে।'
ভোটে জিতলে BJP এই রাজ্যের মানুষের খাদ্যাভাসেও নাক গলাবে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতা-নেত্রীরা। মাছ, মাংস বন্ধ করা হয়েছে একাধিক NDA শাসিতা রাজ্যে, এমনটাও মত তাঁদের। উদাহরণ স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে বিহার এবং গুজরাতের বিভিন্ন উৎসব-পার্বণের কথা। বাংলার সংস্কৃতি না বোঝার কারণেই BJP এমনটা করতে পারে বলে আশঙ্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে BJP এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একাধিকবার জানিয়েছেন, এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে BJP-র মাছ-মাংস বন্ধ করা কিংবা কারও খাদ্যাভাসে হস্তক্ষেপ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। BJP নেতা তেমজেন ইমনা আলং মাংস খেতে খেতে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে বলেছেন, 'মমতাদিদি আমি BJP কিন্তু আমিষ খাবার খাই।' BJP সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরও বাংলায় এসে মাছ ভাত খেয়ে গিয়েছেন।
ফলত উত্তর কলকাতায় নরেন্দ্র মোদীর রোড শোয়ের আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।