প্রথম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গের কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হবে? ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ভোটিং দেখেছে বাংলা। বৃহস্পতিবার বাংলায় ৯২.৮৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। আর এই ঘটনায় খুবই উচ্ছ্বসিত দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের ৪৪,৩৭৬টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও পুনর্নির্বাচনের বা রিপোল-এর প্রয়োজন নেই।
তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ভোট নিয়েও ইতিবাচক কথা বলছেন জ্ঞানেশ। দক্ষিণের এই রাজ্যের ভোটেও কোনও রিপোল হবে না বলে তিনি ঘোষণা করেছেন। মাথায় রাখতে হবে, ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ৭৫,০৬৪টি ভোটকেন্দ্রেও ভোট হয়েছে। আর সেখানে একটা জায়গাতেও পুরনায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ভোট নিয়ে কমিশনের কী দাবি?
নিজেদের কাজে খুশি কমিশন। তাদের পক্ষ দাবি, ভয়মুক্ত, হিংসতামুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে করা গিয়েছে। প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সাধারণ ভোটার সবাই এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই কমিশনের পক্ষ থেকে সকলের সঙ্গ সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার কথাও বলা হয়।
প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে। ৯২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল প্রথম দফার নির্বাচন। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। দু’জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলার খবরও সামনে এসেছে। একটি ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে মারধর করা হয়। সেই সময় তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে উদ্ধার করেন। যদিও তারপরও কোথাও পুনরায় ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। বরং ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে তাদের তরফে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে মোট ৮৫.১৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। দুই রাজ্যেই এটি স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, এর আগে তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে। সেবার ৭৮.২৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। একই পরিসংখ্যান ছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও। এই রাজ্যেও ২০১১ সালে ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ মানুষ ভোট দেন। আর সেই রেকর্ড এবার ভেঙে গেল।
এছাড়াও, সম্প্রতি অসম, কেরলম এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনেও রেকর্ড ভোটিং হয়েছে। অসমে ৮৫.৯১ শতাংশ, পুদুচেরিতে ৯১.২৩ শতাংশ এবং কেরলে ৭৮.২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর এই সব ভোট শতাংশই রেকর্ড। আর এই পরিসংখ্যান ঘিরেই উচ্ছ্বসিত কমিশন।