
শহর হোক বা শহরতলী, নিত্যদিনের কাজে অন্যতম ভরসা মোটরবাইক। কিন্তু ভোটগ্রহণের দু'দিন আগে সেই জরুরি বাহনে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা। ফলে রাতারাতি মাথায় হাত পড়েছে অনেকের। নির্বাচন কমিশনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক চালানোয় নিষেধাজ্ঞার নির্দেশিকায় বিভ্রান্তিও ছড়িয়েছে বিস্তর। ওলা, উবারের মতো অ্যাপ বাইক কিংবা সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কইটের মতো সংস্থার ডেলিভারি বয়দের একমাত্র ভরসা বাইক। পেট চলে বাইক চালিয়েই। সেক্ষেত্রে তাঁরাও কি কর্মসূত্রে বাইক নিয়ে ভোটের মধ্যে বেরোতে পারবেন না? উদ্বেগ ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও। তবে বিভ্রান্তি দূর করে মঙ্গলবার রাতেই একটি নোটিশ জারি করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার ঝক্কি কি তবে সাধারণ মানুষকেও পোয়াতে হবে? নোটিশে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ওলা কিংবা উবারের মতো অ্যাপ বাইক সংস্থাগুলি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না। অর্থাৎ তাঁরা যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন সাধারণ নিয়মেই। একই ভাবে সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিঙ্কইটের মতো সংস্থার ডেলিভারি বয়রাও বাইক নিয়ে সামগ্রী বা খাবার ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। তবে রয়েছে একটি বিশেষ শর্ত।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গিগ ওয়ার্কারদের কাছে অবশ্যই থাকতে হবে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র। যদি প্রয়োজন পড়ে পুলিশ সেই পরিচয়পত্র চেক করতে পারবে।
কমিশনের বাইক নিয়ে নির্দেশিকায় কী কী নিষেধাজ্ঞা?
> কোনও মোটর বাইক Rally করা যাবে না।
> ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটর বাইক চালানো যাবে না। তবে কোনও এমারজেন্সি পরিস্থিতি যেমন চিকিৎসা ক্ষেত্র বা পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল থাকছে।
> ভোটের ২ দিন আগে থেকে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে আরোহী বসানো যাবে না। তবে মেডিক্যাল এমারজেন্সি, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা স্কুলের শিশুদের নিয়ে যাওয়া বা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিয়মে শিথিলতা রয়েছে।
> ভোটের দিন পরিবারের কাউকে বাইকে চাপিয়ে ভোট দিতে নিয়ে যাওয়া বা নিয়ে আসা যাবে। পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভোটের দিনও ছাড় রয়েছে। তবে এর বাইরে অন্য কোনও কারণে বাইকে যাতায়াত করা যাবে না।