ভাল ঝালমুড়ি মাখতে আর কী কী লাগে?বার্গার, পির্ৎজা -এসব তো হাল ফ্যাশনের খাবার। বাংলার শহরে শহরে বড়জোর ১০-১৫ বছরের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই সব বিদেশি ফুড। তার আগে বাঙালির স্ন্যাকস আইটেম জুড়ে রাজ করেছে ঝালমুড়ি, আলুকাবলি, ফুচকার মতো খাবার। আজকাল এই খাবারগুলি 'ব্যাকডেটেড' আখ্যা পেলেও, রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেতেই, দেশজুড়ে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ঝালমুড়ি। অবাঙালিরা অনেকেই ভাবছেন, এই খাবারটি আসলে কী? কীভাবেই বা তৈরি করা হয়? জেনে নেওয়া যাক।
অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন ২০ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রেতারা
শহরতলিতে প্রায় ২০ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তপন বিশ্বাস ও পরিতোষ বিশ্বাস নামে দুই ঝালমুড়ি বিক্রেতা। তপন বিশ্বাস ঝালমুড়ি বিক্রি করেন এয়ারপোর্ট সংলগ্ন উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকায়। আর পরিতোষ বিশ্বাস ঝালমুড়ি বিক্রি করেন মধ্যমগ্রামে। এই দুই ঝালমুড়ি বিক্রেতা bangla.aajtak.in -কে জানালেন, ঠিক কী কী উপায়ে ২০ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তাঁরা, কোন কোন মশলাতে আরও খোলতাই হচ্ছে ঝালমুড়ির স্বাদ?
কী ভাবে ঝালমুড়ি বানানো হয়?
প্রথমে সিদ্ধ আলু,ঝাল চানাচুর, তেল দিয়ে মুড়িটা মাখাতে হবে। সেই সময়ই দিয়ে দিতে হবে অল্প পরিমাণে মশলা, কাঁচালঙ্কা। তবে ঝালমুড়ি মাখায় কিন্তু কোনও ভাবেই শুকনো লঙ্কা দেওয়া চলবে না। মিনিট ২-৩ ধরে এই মুড়ির সঙ্গে মেশাতে হবে আলুকাবলি, সিদ্ধ ছোলা ও বাদাম।
সিক্রেট টিপস- স্বাদ বাড়াতে কী কী উপাদান?
স্বাদ বাড়ানোর জন্য ঝালমুড়িতে বেশ কিছু উপাদান যোগ করেন বিক্রেতারা। তপন বিশ্বাস জানান, তিনি ঝালমুড়ি মাখার সময় ব্যবহার করেন 'আমচুর' নামে একটি স্পেশাল মশলা। এটি মূলত ঝালমুড়িকে আরও মুখরোচক করে তোলে।
পরিতোষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি ঝালমুড়িতে ব্যবহার করেন আমের আচারের তেল। আম তেল দিলে ঝালমুড়িতে সামান্য টক ফ্লেভার পাওয়া যায়, যা স্বাদ অনবদ্য করে তোলে। এছাড়াও, ঝালমুড়িতে ধনেপাতা দিলে সুন্দর গন্ধ ও স্বাদ বাড়ে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে তপন বিশ্বাস ব্যবহার করেন ধনেগুঁড়ো। ঝালমুড়িতে নারকেল দিলে স্বাদ আরও বাড়ে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে ঝালমুড়ি খেতে সুস্বাদু বটে। কিন্তু সঠিক ভাবে বানাতে কিন্তু লাগে বিস্তর সময়। আর তাতেই টেস্টি হয়ে ওঠে এই খাবার। যা এখন নজর কেড়েছে গোটা ভারতেরই।