Junglemahal BJP: ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির স্বাদ কেমন? রাজনীতিতে দু'বছরও অনেকটা সময়

বিধানসভাওয়াড়ি দেখতে গেলে, ২০১৯ সালে জঙ্গলমহলের ১২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেই লিড ছিল বিজেপির। ২০২১ সালে তাই বিজেপি আত্মবিশ্বাসী ছিল। ভেবেছিল, জঙ্গলমহলের সব আসনই চলে আসবে গেরুয়া দখলে। 

Advertisement
ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির স্বাদ কেমন? রাজনীতিতে দু'বছরও অনেকটা সময়কেন ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী
হাইলাইটস
  • ১২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেই লিড ছিল বিজেপির
  • দু বছরের মধ্যেই বিজেপি-র হাত থেকে বেরিয়ে যায় জঙ্গলমহল
  • কাট টু ২০২৪-এর লোকসভা ভোট

সত্যজিত্ রায়ের গল্পের নামের মতো বলা যায়, 'ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি'! বৈশাখের বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কনভয় থামিয়ে হঠাত্‍ ঝালমুড়ি খেলেন। তাও আবার ঝাড়গ্রামে সভা সেরে। দেখুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাস্তার ধারে কোনও দোকানে ঝালমুড়ি কিনে খাচ্ছেন, এটার মধ্যে চমক থাকলেও, আপাত ভাবে দেখলে, রাজনৈতিক নেতারা এরকম করেই থাকেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হঠাত্‍ কনভয় থামিয়ে মোমো বানিয়েছেন, চপ ভেজেছেন, চা বানিয়েছেন। 'ইহায় আশ্চর্যের কিছু নাই!' কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপটি হঠাত্‍ করলেন কেন? যাঁর প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি আগে থেকেই ঠিক করা থাকে, যাকে বলে প্রোটোকল, সেই মোদী কেন প্রোটোকল ভেঙে ঝাড়গ্রামের রাস্তায় ঝালমুড়িতে মজে গেলেন? 

১২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেই লিড ছিল বিজেপির

আসলে প্রতি ভোটেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঘুরে ফিরে আসে জঙ্গলমহলের নাম। ঝাড়গ্রাম জেলাটি পড়ে জঙ্গলমহলেই। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া-র ১২টি আসনকে চিহ্নিত করা হয় ওই নামে। পশ্চিমবঙ্গে একটি ট্রেন্ড দেখা যায়, প্রথম দিকে ভোট হয় উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোট হয় দক্ষিণের জেলাগুলিতে। জঙ্গলমহলে বিজেপি-র উত্থান মূলত ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে। বিধানসভাওয়াড়ি দেখতে গেলে, ২০১৯ সালে জঙ্গলমহলের ১২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেই লিড ছিল বিজেপির। ২০২১ সালে তাই বিজেপি আত্মবিশ্বাসী ছিল। ভেবেছিল, জঙ্গলমহলের সব আসনই চলে আসবে গেরুয়া দখলে। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি কিনে খেলেন -- পিটিআই
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি কিনে খেলেন -- পিটিআই

দু বছরের মধ্যেই বিজেপি-র হাত থেকে বেরিয়ে যায় জঙ্গলমহল

কিন্তু একুশে তা ঘটল না। দেখা গেল ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসনে জিতল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন, জঙ্গলমহলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকেই। শুভেন্দু ২০২০ সালে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর বিজেপি ভেবেছিল, জঙ্গলমহলে শুভেন্দু ম্যাজিক ও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় বিজেপি ভাল ফলই করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় একুশের ভোটের রেজাল্ট বেরতেই।

ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম, বিনপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি, পুরুলিয়ার বান্দোয়ান, বাঘমুণ্ডি, জয়পুর এবং বলরামপুর, বাঁকুড়ার তালডাংরা, রাইপুর, রানিবাঁধ, এই ১২টি আসন নিয়েই জঙ্গলমহল। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঘমুণ্ডি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। বাকি সব ক’টি আসনেই ফুটছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভায় বদলে যায় চিত্র। শালবনি এব‌ং বিনপুর বাদে বাকি আসনগুলিতে ভোটের হিসেবে এগিয়ে ছিল বিজেপি। দু বছরের মধ্যেই বিজেপি-র হাত থেকে বেরিয়ে যায় জঙ্গলমহল।

Advertisement

কাট টু ২০২৪-এর লোকসভা ভোট

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ঝাড়গ্রামের বিদায়ী সাংসদ বিজেপির কুনার হেমব্রম তৃণমূলে যোগদান করায় এই আসনে ধাক্কা খায় বিজেপি। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ঝাড়গ্রাম লোকসভার অধীনে কোনও কেন্দ্রেই জিততে পারেনি বিজেপি। পুরুলিয়া আসনটিও খুব কষ্ট করে জিতেছিলেন বিজেপি-র জ্যোতির্ময় মাহাতো। বাকি বাঁকুডা, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসই জিতেছে। 

ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির স্বাদ আসলে কেমন?

ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মিরা কি এবারে বিজেপি-র দিকে মুখ তুলে চাইবে? ২০১৯ সালে ভাল ফল করা বিজেপি কিন্তু ২০২১ সালে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আবার ২০২৪ সালে ভাল করল তৃণমূল। ছাব্বিশে কী হবে? রাজনীতিতে দু'বছর অনেকটা সময়। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির স্বাদ আসলে কেমন? BJP বুঝবে ৪ মে।   

POST A COMMENT
Advertisement