Modi Eats Jhalmuri: ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতার দিনে আয় কত? মোদী আসবেন জানতেন? যা বললেন সেই বিক্রম

১০ টাকা দিয়ে ঝাড়গ্রামের একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খান দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলত রাতারাতি লাইমলাইটে চলে এসেছেন ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়িওয়ালা বিক্রম কুমার। দিনে কত টাকা আয় করেন তিনি? নরেন্দ্র মোদী তাঁর থেকে কী কী জানতে চান? আগে থেকে কী দোকানে ক্যামেরা ছিল?

Advertisement
ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতার দিনে আয় কত? মোদী আসবেন জানতেন? যা বললেন সেই বিক্রমঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকানে ক্যামেরা ফিট ছিল?
হাইলাইটস
  • লাইমলাইটে চলে এসেছেন ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়িওয়ালা
  • দিনে কত টাকা আয় করেন তিনি?
  • আগে থেকে কী দোকানে ক্যামেরা ছিল?

রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে ঝাড়গ্রামের বিক্রমের ঝালমুড়ি। নিছক সাদামাটা একটি মুড়ির দোকান। তবে রবিবারের পর থেকে তা আর সাধারণ নেই। কারণ, খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী বিক্রমের এই একচিলতে দোকানে এসে মুড়ি মাখা খেয়েছেন। আবার তার দামও মিটিয়েছেন নিজে হাতে। 

স্পটলাইটে বিক্রম
আচমকাই স্পটলাইটে চলে এসেছেন বিক্রম কুমার। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে রাস্তার ধারে তাঁর দোকানেই ঢুকে পড়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বলেছিলেন, 'ভাই, ভালো ঝালমুড়ি খাওয়াও তো।' তার পরের ঘটনাবলী সকলেই দেখেছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদী যাঁর দোকানে গিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খেলেন, সেই ব্যক্তির দৈনিক রোজগার কত? জানতে উৎসুক সকলেই। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই বা তাঁর কী কথোপকথোন হল? কেমন অনুভূতি হল তাঁর? নিজেই জানিয়েছেন বিক্রম। 

ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কী কথা হল মোদীর?
রবিবার ঝাড়গ্রামে ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ সেখান থেকে ফিরছিলেন। হঠাৎ কনভয় থামান  ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে। গাড়ি থেকে নেমে মোদী সটান ঢুকে পড়েন একটি ঝালমুড়ির দোকানে। মোদীকে এ ভাবে কনভয় থামিয়ে, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঝুপড়ি দোকানে ঢুকে পড়তে দেখে সকলেই হতবাক। তাঁকে সামনে দেখে মুড়ি বিক্রেতা বিক্রম কুমার হতভম্ব হয়ে যান। 

বিক্রম বলেন, 'উনি ১০ মিনিট ছিলেন আমার দোকানে। বললেন, ভাল করে মশলামুড়ি মাখতে। জিজ্ঞেস করলেন কত দাম? বললাম ১০ টাকা, ২০ টাকার মুড়ি হয়। আমি বললাম, স্যর দাম দিতে হবে না। আমি নিতেও চাইনি। উনি তা-ও আমায় পকেট থেকে বের করে ১০ টাকা দিলেন। আমি এই টাকা আজীবন রেখে দেব। কখনও খরচ করব না। আমার কাছে ভগবানের আশীর্বাদের মতো।  আমার দোকানে এসে ঝালমুড়ি খেলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।' 

কেমন ছিল ঝাড়মুড়ি?
বাদাম, সেউভাজা, চানাচুর, কাঁচা ছোলা আর আমের আচার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ঝালমুড়ি মেখেছিলেন বিক্রম। তিনি জানতে চান, পেঁয়াজ এবং ঝাল দেবেন কি না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সব খাই, শুধু কারও মাথা খাই না।' সেই ঝালমুড়ি মোদী নিজে খেয়েছেন, অন্যদেরও খাইয়েছেন। 

Advertisement

কে এই বিক্রম?
প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, বিক্রমের জীবনযাত্রা। ঝালমুড়ি বিক্রেতাও জানান, তিনি আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ির দোকান চালান তিনি। আগে তাঁর বাবা চালাতেন এই দোকান। ক্লাস নাইনের পর আর পড়াশোনা করা হয়নি বিক্রমের। 

কত রোজগার বিক্রমের?
প্রধানমন্ত্রী এ প্রশ্নও করেছেন ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়িওয়ালাকে। বিক্রম বলেন, 'ঝালমুড়ি বিক্রি করে আমার দিনে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মতো রোজগার হয়।'

কী আফসোস ঝালমুড়ি বিক্রেতার?
বিক্রম জানান, তিনি এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন যে ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে অটোগ্রাফ চাওয়ার কথাই ভুলে গিয়েছেন। এটা তাঁর আফসোস রয়ে গিয়েছে। 

'ফিট করা ঝালমুড়ি বিক্রেতা?'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, আগে থেকেই লোক এনে ফিট করা হয়েছিল। ঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকানে ক্যামেরা কোথা থেকে এল? প্রশ্ন তোলেন মমতা। তবে এ বিষয় প্রশ্ন করা হলে বিক্রম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাচ্ছিল যখন আমি জয় শ্রীরাম বলি। উনি শুনতে পান। পাল্টা জয় শ্রীরাম বলেন। তারপরই দেখলাম গাড়ি থামিয়ে নেমে সোজা আমার দোকানে এলেন। নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিল। আশপাশে প্রচুর লোক জমে গিয়েছিল। আমি জানতাম না উনি আসবেন। তবে আমার ছোট দোকানে উনি এসেছেন, আমি সারাজীবন মনে রাখব।'


 

POST A COMMENT
Advertisement