
ভোটের উত্তাপ এখনও কাটেনি, তারই মাঝে বাড়ছে গরমের তীব্রতা। তবে এই দুই চাপের মাঝেও থেমে নেই বাঙালির বেড়ানোর পরিকল্পনা। ভোটপর্ব শেষ হলেই শুরু হবে গ্রীষ্মের ছুটি। আর সেই ছুটিকে ঘিরেই এখন জোরকদমে চলছে হলিডে ডেস্টিনেশন বুকিং।
ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, প্রতি বছরের মতো এবারও বাঙালির প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে দিঘা, পুরী ও দার্জিলিং। তবে তার পাশাপাশি বেড়েছে পাহাড়মুখী পর্যটনের ঝোঁক। বিশেষ করে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন গন্তব্য, হৃষীকেশ, মুসৌরি, নৈনিতাল, সিমলা, কুলু, স্পিতি ভ্যালি ও মানালি, এবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি সিকিমেও বাড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহ।
এই চাহিদার জেরে ট্রেনের টিকিটের হাহাকার স্পষ্ট। উত্তরবঙ্গ কিংবা উত্তর ভারতের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলির জন্য আগাম বুকিং প্রায় ভরে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট পেরোনোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের কাজে ব্যস্ত এক সরকারি কর্মীর কথায়, 'এসআইআর থেকে ভোট, সব মিলিয়ে দম ফেলার ফুরসত ছিল না। তবুও গরমের ছুটিতে পরিবারকে নিয়ে কোথাও না কোথাও যেতেই হবে। তাই আগেই নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত টিকিট কেটে রেখেছি। পরে ঠিক করব দার্জিলিং না সিকিম।'
একই অভিজ্ঞতা এক স্কুলশিক্ষিকারও। তিনি বলেন, 'ভোট আর এসআইআরের চাপে এবার নিজে থেকে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়নি। তাই ট্যুর এজেন্সির সাহায্য নিয়েই সিমলা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি।'
ট্রাভেল এজেন্টদের মতে, আগে ধারণা ছিল ভোটের কারণে বুকিং কিছুটা দেরিতে বাড়বে। কিন্তু এখন সবকিছু অনলাইনে হওয়ায় সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং এখনই বুকিংয়ের চাপ স্পষ্ট। অনেকেই পুরো ট্যুর প্ল্যানিং, টিকিট, হোটেল, ঘোরার সূচি, সবকিছুই এজেন্সির হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন।