আতঙ্কে ছিটমহল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নেই, না আছে স্কুল বা হাসপাতাল। SIR প্রক্রিয়ার ফলে ১১০ টি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ছিটমহলের বাসিন্দারা এমনিতেই বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ ওঠে। তার উপর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভোটাধিকার না পেলে ফের দেশহীন হয়ে যাবেন না তো তাঁরা? কপালে চিন্তার ভাঁজ স্থানীয়দের।
ছিটমহল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এমন এলাকা, যা একটি দেশের ভূখণ্ডের মধ্যে থাকলেও অন্য দেশের অংশ। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে এমন অনেক ছিটমহল ছিল। সেগুলি ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের ভেতরে হলেও ভারতের অংশ ছিল। আবার আরও বেশ কয়েকটি এমন ছিল যেগুলি ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত বাংলাদেশি ছিটমহল। এই বাসিন্দাদের কোনো দেশেরই নাগরিকত্ব ছিল না একসময়।
২০১৫ অবস্থার বদল হয়। কারণ, সেই বছর দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে, ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বাংলাদেশ ৫১টি ছিটমহল ভারতকে হস্তান্তর করে। তখন বাসিন্দাদের দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশকে বেছে নেননি। তবে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯০০ জন ভারতে এসেছিলেন। এই সমস্ত মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টিও সমাধান করা হয়েছিল।
এখন প্রায় ১১ বছর পর ভারতের এই 'নতুন নাগরিকরা' নাগরিকত্বের প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন। ২০১৫ সালের পর তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে অনেক নাম বাদ পড়েছে।
দক্ষিণ মশালডাঙ্গা এমনই একটি ছিটমহল। সেখানে প্রায় ১,৪০০ মানুষ বাস করেন। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ৩০০ জনের নাম বাদ যায়। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১০ জন প্রকৃত ভোটার।
এলাকাবাসীর দাবি, ছিটমহল বিনিময়ের আগে পরিচালিত সমীক্ষার নথি তাঁদের কাছে রয়েছে এবং সেই নথিতে তাঁদের নাম থাকা সত্ত্বেও অনেককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার আলি বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি। তাঁর আরও সংযোজন, 'গ্রামের বিবাহিত মেয়েরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ এবার তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে, জরিপের নথি দেখিয়ে মানেক আলি শেখ জানান, তাঁর নাম ও বানান সঠিক। তাঁর বাবার নামও সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তবুও তিনি জানেন না কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা, হয়তো তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ মশালডাঙ্গার পরিস্থিতি এখনও শোচনীয়। এখানকার ১,৪০০ বাসিন্দার জন্য কোনও স্কুল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। একসময় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলা হলেও কয়েক বছর পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় যুক্ত না করা হলে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে বাসিন্দারা মনে করছেন।