ফলতায় বিক্ষোভফের উত্তজেনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। তৃণমূলের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হুমকি দিচ্ছে। ভয় দেখাচ্ছে। পাশাপাশি ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদকারীরা ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।
এ দিন প্রতিবাদীরা অভিযোগ জানান, টিএমসি সমর্থকরা রোজ রোজ হুমকি দিচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিও তোলেন তাঁরা।
এই ঘটনার পর ইতিমধ্যেই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা লাগু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্স ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকী উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি সাঁজোয়া সিআরপিএফ গাড়িও আনা হয়েছে এলাকায়। এর মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা লেগে পড়েছে প্রশাসন।
আজকের এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন অনেক মহিলা। তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এই প্রসঙ্গে এক স্থানীয় মহিলা বলেন, 'টিএমসি-র ইসরাফিল চৌকিদার আমাদের হুমকি দিয়েছে, ওরা জিতলে আমাদের ঘর পুড়িয়ে দেবে। রক্তপাত ঘটাবে।'
অপর এক মহিলা অভিযোগ করেন, শাসক দলকে ভোট দেওয়ার পরেও তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা টিএমসি-কে ভোট দিয়েছিলাম। তারপরও আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা চাই ওকে গ্রেফতার করা হোক। মহিলাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।'
অন্য এক প্রতিবাদী দাবি করেন, এক স্থানীয় টিএমসি নেতা মোটরবাইকে কয়েকজনকে নিয়ে গ্রামে ঢুকে হুমকি দেয়। তাঁর অভিযোগ, পুরুষ ও মহিলাদের ভয় দেখানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের আক্রমণ ও খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, আজ দ্বিতীয় দফার ভোটে অনিয়মের অভিযোগে মাগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। আর এ দিনই আবার পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠল ফলতায়।
কমিশন জানিয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত মাগরাহাট পশ্চিম ভোটদানের হার ৫৬.৩৩ শতাংশ। আর ডায়মন্ড হারবারে ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
অন্যদিকে, স্ট্রংরুম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের খাম বাছাই করা হয়েছে।
ও দিকে বিজেপি অভিযোগ করেছে, একটি স্ট্রংরুম অনুমতি ছাড়া খোলা হয়েছিল। আর এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্তত ছয়জন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।