অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী।লোকসভায় ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ ব্যর্থ হতেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের ফের কাছাকাছি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন রাহুল গান্ধী। ডেরেক ও'ব্রায়েনের সঙ্গে ফোন কথা বললেন মল্লিকার্জুন খাড়গে আর অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন অখিলেশ যাদব। এই ফোনাফোনির খবর প্রকাশ্যে আসতেই BJP-র কটাক্ষ, 'দিল্লিতে দোস্তি, বাংলায় কুস্তি'।
কেন এই ফোন কল?
টানা নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যস্ত রয়েছেন অন্যান্য সাংসদরাও। ফলে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে তৃণমূলের সাংসদদের অবস্থান ঠিক কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। সকলে আদৌ উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে দেখা গেল সায়নী ঘোষ, দেব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অনুপস্থিত থাকলেও লোকসভায় উপস্থিত থেকে বাকি তৃণমূল সাংসদরা ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিপক্ষে ভোট দিলেন। আর ভোটাভুটির নিরিখে গত ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার নরেন্দ্র মোদী সরকার কোনও বিল পাশ করাতে পারল না লোকসভায়। বিলটি আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। আবার কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদের ফ্লোর কোঅর্ডিনেশনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও ফোন করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সব মিলিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই 'দোস্তি' নজর কেড়েছে দেশের রাজনীতিতে। আর সেটাকেই হাতিয়ার করতে ছাড়েনি BJP।
অভিষেকের বক্তব্য
শুক্রবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, 'লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিল পাশের ব্যর্থতা BJP-র অস্বস্তিকে একেবারে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিল ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইন্ডিয়া জোট। এটা একেবারে স্পষ্ট, NDA সরকার এখন ধার করা সময়ে চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম থাকার যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা এখন সবার চোখের সামনেই ভেঙে চুরমার হতে শুরু করেছে।' অর্থাৎ অভিষেকের গলাতেই ঐক্যবদ্ধ INDIA জোটের কথা শোনা গিয়েছে। সূত্রে এও জানা গিয়েছে, অভিষেক ফোনে রাহুলকে বলেছেন, 'জাতীয় রাজনীতিতে BJP-র বিরুদ্ধে হাওয়া ঘুরছে।'
বাংলার সমীকরণ
অথচ এই রাহুল গান্ধীই দু'দিন আগে বাংলায় ভোট প্রচারে এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলায় BJP-কে সুযোগ করে দিচ্ছে তৃণমূলই। সারদা থেকে শুরু করে আরজি করের ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। এ বার বঙ্গে বিধানসভা ভোটে ২৯৪টি কেন্দ্রে একাই লড়ছে কংগ্রেস। এই অবস্থায় রাহুল–অভিষেক ফোনালাপের মতো ইস্যু নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শোনা গিয়েছে BJP নেতাদের মুখে।