তৃণমূল কংগ্রেসের হার নিয়ে কংগ্রেসের একাংশের ‘উচ্ছ্বাস’ প্রকাশের বিরোধিতা করলেন। Rahul Gandhi on TMC Defeat: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি। তবে তাই নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের মাতামাতি করতে বারণ করলেন রাহুল গান্ধী। তৃণমূল কংগ্রেসের হার নিয়ে কংগ্রেসের একাংশের ‘উচ্ছ্বাস’ প্রকাশের বিরোধিতা করলেন। রাহুল বললেন, 'ক্ষুদ্রতর রাজনৈতিক স্বার্থ ভুলে যান। এটা কোনও একটি দলের লড়াই নয়, এটা ভারতের গণতন্ত্রের প্রশ্ন।'
সোমবার X-এ একটি পোস্ট করে রাহুল দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে মানুষের রায় 'চুরি' হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ধাপে ধাপে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা করছে। আর সেই কারণেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির উচিত নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সরিয়ে বৃহত্তর লড়াইয়ের দিকে নজর দেওয়া।
রাহুল লেখেন, 'কংগ্রেসের কিছু নেতা এবং অন্য অনেকে তৃণমূলের হার নিয়ে আনন্দ করছেন। তাঁদের বুঝতে হবে, অসম এবং বাংলার জনমতের চুরি বিজেপির গণতন্ত্র ধ্বংসের মিশনের বড় পদক্ষেপ।'
রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের বার্তাই দিতে চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের পরে বিরোধী শিবিরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, রাহুলের বক্তব্য তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পরাজয়কে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের মধ্যেই মতপার্থক্য সামনে আসছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন পায়নি কংগ্রেস। এবার পশ্চিমবঙ্গে দু’টি আসনে জিতেছে। তবে, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাহুলের এই বার্তা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের বিরোধী রাজনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতেও এই স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।