কৃষ্ণেন্দু , রত্না চট্টোপাধ্যায় ও অতীন ঘোষমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। তাঁদের অভিযোগ, নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত ও সাধারণ মানুষের থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই এই ভরাডুবি হয়েছে। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসার সময়েও দল পাশে দাঁড়ায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নিশানা করে বলেন, তাঁর কারণেই বহু উন্নয়নমূলক কাজ রাজ্যে হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় মনোজ বলেন, 'এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার মানুষের জবাব পেয়েছে। কারণ তারা কখনও মানুষের ভালোর জন্য কাজ করেনি, প্রতিশ্রুতি পূরণের ইচ্ছাও ছিল না। নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল।'
২০২১ সালে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন মনোজ তিওয়ারি। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী হওয়া রানা চট্টোপাধ্যায় বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষের কাছে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন।
মনোজ অভিযোগ করেন, 'হাওড়ায় একটি অ্যাথলেটিক্স হাব গড়তে চেয়েছিলাম। সেই প্রকল্পের জন্য জামাইকান অলিম্পিয়ান ও স্প্রিন্টার ইয়োহান ব্লেককেও যুক্ত করেছিলাম। রাজ্যের ৭০০ কোটি টাকার ক্রীড়া বাজেট থেকে মাত্র ৫ কোটি টাকা লাগত। কিন্তু অরূপ বিশ্বাস বুঝেছিলেন এতে আমার জনপ্রিয়তা বাড়বে, তাই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেন।'
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবং কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশলকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, 'দলের পতনের জন্য অভিষেক একাই দায়ী।'
বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের পরাজিত প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, জরুরি সময়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।অন্যদিকে তৃণমূলের অভিনেতা-সাংসদ দেব বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বাংলা চলচ্চিত্র জগতে বিভাজন ও নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি বন্ধ হোক। পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই বাংলা সিনেমার উন্নতি সম্ভব।'
ঘাটালের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে দেব বলেন, নতুন সরকার যেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, ক্ষমতায় থাকার কারণে এতদিন কর্মী বা সাংসদ-বিধায়করা দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। তবে এখন পরাজিত হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দিন যত যাবে ততই আরও অনেকে মুখ খুলবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, এই সব বক্তব্যের দায় তৃণমূল নেবে না। তারা বিবৃতিতে জানায়, 'ব্যক্তিগতভাবে কেউ যা বলছেন, তা দলের সরকারি অবস্থান নয়। শুধুমাত্র দলীয় অফিসিয়াল মাধ্যমে জানানো বক্তব্যকেই দলের অবস্থান হিসেবে ধরা উচিত।'