এমনই সম্ভাবনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। West Bengal Election 2026: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। এমনই সম্ভাবনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। শুক্রবার তিনি জানান, পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২ থেকে ৩ জায়গায় রিপোল হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২-৩টি জায়গায় পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। অবজ়ারভার রিপোর্ট জমা দেবেন। তার পরেই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কয়েকটি জায়গায় রিপোল হতে পারে। তবে অবজ়ারভারের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' তাঁর কথায়, আগামী দু’ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, বিতর্কের মূলে ফলতা কেন্দ্র। দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন অর্থাৎ, ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার দাবি ছিল, একাধিক বুথে তাঁর নামের সামনে থাকা বোতাম কাজ করছিল না। কোথাও আবার সেই বোতাম টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন।
দেবাংশুর দাবি, এর ফলে বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, 'পরিকল্পিতভাবেই বিজেপির প্রতীকের সামনে থাকা বোতাম জ্যাম করে দেওয়া হয়েছিল। ভোটাররা বোতাম চাপতে পারছিলেন না। এতে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা তৈরি হয়েছে।' যদিও ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য (Amit Malviya) সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, ফলতার একাধিক বুথে বিজেপির ভোটের অপশন টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, 'এটাই তথাকথিত ডায়মন্ড হারবার মডেল।'
অমিত মালব্য তাঁর পোস্টে নির্দিষ্ট কয়েকটি বুথের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ফলতা ১৪৪ নম্বর এলাকায় পার্ট ১৭০-এর হারিণডাঙা হাই স্কুলের ২ নম্বর কক্ষে বোতাম ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ১৮৯-সহ আরও কয়েকটি বুথেও একই ধরনের অভিযোগ তোলে বিজেপি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে এখন সবার নজর কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই বুথগুলিতে সত্যিই পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তা খুব শীঘ্রই স্পষ্ট হতে পারে।