RSS Bengal Election 2026 Plan: বাংলার ২৫০-এর বেশি বিধানসভায় 'ড্রইংরুম বৈঠকে' RSS, ভোট নিয়ে ঠিক কী প্ল্যান?

২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। হাতে আর মাত্র একদিন। তার বহুদিন আগেই নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। তারা ইতিমধ্যেই নীরবে লক্ষ লক্ষ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। এমনকী জনমতকে নিজেদের দিকে করার চেষ্টা করছে বলে খবর মিলছে।

Advertisement
বাংলার ২৫০-এর বেশি বিধানসভায় 'ড্রইংরুম বৈঠকে' RSS, ভোট নিয়ে ঠিক কী প্ল্যান?আরএসএস-এর প্ল্যান কী?
হাইলাইটস
  • ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট
  • তার বহুদিন আগেই নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস
  • ইতিমধ্যেই নীরবে লক্ষ লক্ষ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে

২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। হাতে আর মাত্র একদিন। তার বহুদিন আগেই নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। তারা ইতিমধ্যেই নীরবে লক্ষ লক্ষ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। এমনকী জনমতকে নিজেদের দিকে করার চেষ্টা করছে বলে খবর মিলছে।

মাথায় রাখতে হবে, আরএসএস সরাসরি নির্বাচনী প্রচার করে না। তারা চার-পাঁচ জন স্বয়ংসেবকের ছোট ছোট দল তৈরি করে 'ড্রয়িংরুম বৈঠকের' মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়াচ্ছে। এটাই তাদের প্ল্যান।

এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছে এক আরএসএস কর্মী। তিনি জানান, এটি ‘লোকমত পরিশোধন’ অভিযান। এই পদ্ধতিটি দিল্লির নির্বাচনের ধাঁচে পরিচালিত হচ্ছে। আড়াইশোরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লক্ষের কাছাকাছি মানুষ এই ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এই সব বৈঠকে ভোটে ভয়-প্রলোভন ছাড়া ভোটদানের আবেদন জানানো হয়েছে। 

এখানেই শেষ নয়, আরএসএস কর্মীরা লিফলেটও বিলি করছেন। এই লিফলেটে রাজ্যের একাধিক সমস্যাগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

যতদূর খবর, এখানে প্রধান ইস্যুগুলির মধ্যে রয়েছে নারী সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়। বিশেষত, নারী সুরক্ষাকেই বড় ইস্যু করা হয়েছে। সেখানে আর জি কর কাণ্ডেরও রয়েছে উল্লেখ। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ‘দুর্গা ব্রিগেড’ গঠনের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে। এর পাশাপাশি সংসদে নারী সংরক্ষণ বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানকেও নিশানা করা হচ্ছে। 

এর সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে। সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। 

অনুপ্রবেশ নিয়েও বড় দাবি
অনুপ্রবেশ ও হিন্দু সঙ্কট নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি। আর সেই বিষয়টা উঠে এসেছে আরএসএস-এর মুখেও। তাদের মতে, অনুপ্রবেশের বিষয়টি হিন্দুদের নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। এটা বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। 

পাশাপাশি স্বয়ংসেবকরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের গতিবিধি, সম্ভাব্য হিংসা বা বুথ দখলের আশঙ্কার উপর নজর রাখছেন। সেই মতো নিজেদের প্ল্যান সাজাচ্ছেন বলে খবর।

Advertisement

মোবাইল নম্বর সংগ্রহ
মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখার কাজটি করছে আরএসএস। ধর্মীয় সংগঠন ও আশ্রমগুলির সঙ্গেও সমন্বয় গড়ে তোলা হচ্ছে আরএসএস-এর তরফে।

মাথায় রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গে গত ১৫ বছরে আরএসএসের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর শাখার সংখ্যা ৯০০ থেকে বেড়ে ৪৩০০ হয়েছে। মধ্যবঙ্গে ২০২৩ সালের ১৩২০ থেকে ২০২৫ সালে ১৮২৩-এ পৌঁছেছে। এই সব শাখার পক্ষ থেকে হিন্দু ঐক্যের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার এই প্ল্যানিং ভোটে কতটা কার্যকর হয়। 

 

POST A COMMENT
Advertisement