বিজেপির জয়ের উৎসববাংলায় গেরুয়া ঝড়। ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় বিজেপি। আর সেই জয়ের রেশ এবার এসে পড়ল রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্নতে। আজ সকালেই সেখানকার কর্মচারীদের একাংশকে দেখা গেল ভারতীয় জনতা পার্টির বাংলা জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হতে। নবান্নের ভিতরেই উঠল 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান।
মাথায় রাখতে হবে, ২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পর রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রকে মহাকরণ থেকে সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যান বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখান থেকেই ১৫ বছর সরকার পরিচালনা করেছেন তিনি। দিয়েছেন একের পর এক অর্ডার।
তবে সোমবার বিজেপি ঝড়ে কার্যত ছন্নছাড়া ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল মন্ত্রিসভার একের পর এক বড় 'নক্ষত্রের পতন' হয়েছে। এমনকী হেরেছেন খোদ দলের নেত্রী মমতা। তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। আর এই ফল প্রকাশ পাওয়ার পরই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আর বিধানসভায় ফিরছেন না মমতা। এমনকী বিধানসভাতেও এবার পাও রাখা হচ্ছে না তাঁর।
আর এই ঘটনা সামনে আসার পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারই উলট পুরাণ দেখল নবান্ন। একটা সময় যাঁর আদেশ মেনে চলার অভ্যাস ছিল এই ভবনের, তিনিই এখন ব্রাত্য। বরং স্লোগান উঠছে 'জয় শ্রীরাম', 'বিজেপি জিন্দাবাদ'। যেটা কয়েকটা দিন আগে ভাবাও যেত না।
এই দিন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ অভিযোগ করেন, অনেক দিন ধরেই তাঁরা সরকার বিরোধী। কিন্তু তাঁদের স্বর সবসময় দমিয়ে রাখা হতো। তাই তাঁরা এতদিন চুপ করে থাকতেন। আর মমতা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর অনেকেই খোলাখুলি বিজেপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। আর নবান্নের এই নতুন রং দেখে অনেকেই অবাক।
ভোপালেও ঝালমুড়ি
ও দিকে বিজেপির বাংলা জয়ের রেশ গিয়ে পড়েছে ভোপালেও। সেখানে মন্ত্রিসভায় মোহন যাদবের সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠকেও দেখা তার ছাপ। মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা ক্যাবিনেট বৈঠকের মধ্যেই ঝালমুড়ি খেয়ে উদযাপন করলেন।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলার নির্বাচন প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। এরপর থেকেই বাংলার এই জনপ্রিয় খাবার নিয়ে পুরো নির্বাচনী পর্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো কথা চলছে এই খাবার নিয়ে। আর গতকালও বিজেপি কার্যালয়ে জয়ের উদযাপনের পর মুখ্যমন্ত্রীসহ দলীয় নেতারা ঝালমুড়ি খেয়ে আনন্দ করেন।