ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন দুই তৃণমূল প্রার্থী।
তাঁদের দাবি, ভিতরে কাজ চললেও তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা। ওই কেন্দ্র আসলে ৭ বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। তৃণমূলের অভিযোগ, বিকেল পর্যন্ত তাঁদের কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে থাকলেও আচমকা তাঁদের সরে যেতে বলা হয়। পরে ই-মেলের মাধ্যমে জানানো হয় নির্দিষ্ট সময়ে স্ট্রংরুম খোলা হবে। কিন্তু সেই সময় দলীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেননি বলেই দাবি। প্রতিবাদে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা সেখানে অবস্থানে বসেন। পরে অবস্থান তুলে নেন তাঁরা। এদিকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় স্ট্রংরুমে বসে আছেন বলে অভিযোগ।
LIVE UPDATES -
শাখাওয়াতের স্ট্রংরুম থেকে বের হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রংরুমে স্বচ্ছ্বতা বজায় রাখা জরুরি, তা দেখতেই এসেছিলাম; শাখাওয়াত স্কুল থেকে বেরিয়ে বললেন মমতা।
বিজেপি নেতা প্রকাশ চন্দ্র বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই বিষয়টির সূত্রপাত করেছেন। আমরা খবর পেয়েছিলাম যে তিনি স্ট্রং রুমে প্রবেশ করছেন। আমাদের কর্মীরা এবং নির্বাচনী এজেন্টরা তা পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যায় তাঁর গাড়িটি প্রায় ২০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা নিজের চোখে এটি দেখেছি। আমরা পুলিশকে গাড়িটি তল্লাশি করার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তারা শোনেনি। তাই আমরা সেখানে ধর্নায় বসি এবং বলি যে যতক্ষণ না গাড়িটি পরীক্ষা করা হচ্ছে, আমরা সরব না। এরপর আমাদের জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বের করে দেওয়া হয়।"
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের একটি গাড়ির গতিবিধি আটকে দিলেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, "গাড়ির ভেতরে কিছু আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গাড়িতে করে কিছু একটা নিয়ে এসেছেন। এই গাড়ি এখান থেকে নড়তে দেওয়া হবে না।"
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ইভিএম নিয়ে কারচুপি করতে ভিতরে ঢুকেছেন। তিনি না বের হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এখানেই থাকবেন।
শাখাওয়াত স্কুলের ভিতরে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে সেখানেই রয়েছেন তিনি। এমনটাই অভিযোগ। এদিকে সেই স্কুলের বাইরে অবস্থান বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের।
স্ট্রংরুমে কারচুপির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তৃণমূলের তরফে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জানাল নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, সব ইভিএম সুরক্ষিত আছে। সেটা শশী পাঁজা বা কুণাল ঘোষকে দেখানো হয়েছে।
মমতা যে শাখাওয়াত স্কুলের স্ট্রংরুমে আছেন, তার বাইরে উত্তেজনা।
রুমের সামনে তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষের ধর্না প্রত্যাহার নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'তৃণমূল তাদের পরাজয়ের আগেই হার মেনে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন দলের পরিস্থিতি কী। সরকার ক্ষমতা হারাতে চলেছে, আর এর সঙ্গে কয়েক মাসের মধ্যেই দলও শেষ হয়ে যাবে। এটি নিভে যাওয়ার আগে প্রদীপের শেষ ঝলকানি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর কতদিন এই নাটক দেখবে? এর কোনও প্রভাব পড়বে না।'
এখনও শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী
TMC-র অভিযোগ, স্ট্রং রুম খোলার সময় জানানো হয়নি। এছাড়াও তাদের আশঙ্কা, সিসিটিভি ও ইভিএমে কারচুপি,বিজেপি–নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশ। পাল্টা নির্বাচন কমিশনের দাবি, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, ৭টি ইভিএম স্ট্রং রুম সিল ও সুরক্ষিত, ভিডিওতে পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া, আগেই সব দলকে জানানো হয়েছিল। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে, তৃণমূল সরকারের মেয়াদ আর চার দিন।
বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, 'ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে তৃণমূল। কমিশনের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। এটা কীভাবে হল?'
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পরেশ রাম দাস স্ট্রং রুম পরিদর্শনে আসেন।
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
কুণাল ঘোষ বলেন, 'আজ যা ঘটেছে, তা নির্বাচন কমিশনের একটি ভুল। সিদ্ধান্ত ছিল, আজকের পর থেকে কোনও স্ট্রং রুমের সিল ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে—এটাই ছিল প্রথম সিদ্ধান্ত। কিন্তু আজ যা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। সেখানে আরও সিসিটিভি ক্যামেরা প্রয়োজন—এই বিষয়টি তারা মেনে নিয়েছে। পুরো বিষয়টি মনিটরে দৃশ্যমান হওয়া উচিত। আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ তাদের জানিয়েছি। ধর্না তুলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দল সবকিছু নজরে রাখবে। এটি আমাদের অধিকার এবং আমরা আইন মেনে সবকিছু করব। কোনও অবৈধ কাজ করার আমাদের উদ্দেশ্য নেই। যখন তারা বেআইনি কিছু করছিল, তখনই আমরা তার বিরোধিতা করেছি। আমাদের একটাই প্রশ্ন—তারা কোনও রকম পূর্বসূচনা ছাড়াই স্ট্রং রুমের সিল ভেঙেছে, আমরা তার বিরোধিতা করেছি, তাতে বিজেপির এত অসুবিধা কোথায়? এর অর্থ, তাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিল না।'
শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে মমতার সঙ্গে দেখা করতে যান ফিরহাদ হাকিম। তবে তাঁকে গেট থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।
এদিকে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে মমতা যাওয়ার পর সেখানে পাল্টা যান শুভেন্দু অধিকারীর এজেন্টও।
তাপস রায়কে দেখে জয় বাংলা স্লোগান তৃণমূলের। পাল্টা স্লোগান বিজেপির। তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। তা প্রশমিত করতে পুলিশ আসে।
নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রং রুম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভিতরে ৭টি স্ট্রং রুম রয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের, তাঁদের নির্বাচন এজেন্ট এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সব স্ট্রং রুম যথাযথভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। শেষ স্ট্রং রুমটি ভোর প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে বন্ধ করা হয়। ইভিএম সংরক্ষিত সব স্ট্রং রুম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সিল করা অবস্থায় রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের জন্য একই প্রাঙ্গণে আরও একটি আলাদা স্ট্রং রুম রাখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ভোটকর্মী এবং ইটিবিপিএস-এর মাধ্যমে দেওয়া ভোটের ব্যালট সংরক্ষিত আছে। কমিশন জানিয়েছে, সমস্ত পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসারদের (আরও) আগেই জানানো হয়েছিল এবং তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদেরও বিষয়টি জানানো হয়। রিটার্নিং অফিসাররা রাজনৈতিক দলগুলিকে ডাকযোগে এই তথ্য জানিয়েছেন। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র সংলগ্ন স্ট্রং রুমের করিডরে বিকেল ৪টা থেকে ব্যালট আলাদা করার কাজ চলছিল। মূল স্ট্রং রুমগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সিল করা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষকে দেখানো হয়েছে।
❗️ALARMING❗️
This is the murder of democracy in broad daylight.
CCTV footage has exposed how @BJP4India, in active collusion with the @ECISVEEP, is opening ballot boxes without the presence of any relevant party stakeholders. This is gross electoral fraud being committed openly… pic.twitter.com/aSe36kGKPI
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) April 30, 2026
শাখাওয়াল মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত ৮ টায় সেখানে যান তিনি। এখনও সেখানেই রয়েছেন।
এলাকায় মোতায়েন প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাতভর সেখানে থাকবেন তাঁরা।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের কর্মীদের বের করে দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
সেখানে পৌঁছলেন তাপস রায়। তাঁরও হুঁশিয়ারি, তৃণমূলের তরফে কোনও বেআইনি কাজ করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা। সেখানে অবস্থান শুরু করেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিজেপির কর্মীরাও সেখানে জড়ো হয়েছেন। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সেখানে।
স্ট্রংরুমের ভিতরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুললেন কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন দুই তৃণমূল প্রার্থী। তাঁদের দাবি, ভিতরে কাজ চললেও তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তারপর ইভিএম রাখা হয়েছে এই কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিকেল পর্যন্ত তাঁদের কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে থাকলেও আচমকা তাঁদের সরে যেতে বলা হয়। পরে ই-মেলের মাধ্যমে জানানো হয় নির্দিষ্ট সময়ে স্ট্রংরুম খোলা হবে। কিন্তু সেই সময় দলীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেননি বলেই দাবি।
কুণাল ঘোষ জানান, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে গিয়ে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, লাইভ স্ট্রিমিংয়ে ভিতরে কিছু কাজ চলার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদি পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ হয়ে থাকে, তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো উচিত ছিল বলেই দাবি তাঁর।
শশী পাঁজাও একই সুরে বলেন, স্ট্রংরুম একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা। সেখানে কোনওরকম নড়াচড়া হলে সব রাজনৈতিক দলকে জানানো জরুরি। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ তৃণমূলের। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়।
উল্লেখ্য, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন। তার পরেই এই অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
Advertisement
নির্বাচন কমিশনের তরফে যদিও দাবি করা হয়েছে, স্ট্রংরুমের ভিতরে কোনও বেআইনি কাজ হয়নি। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তবে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।