শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে প্রচারে বেরিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'হাবরার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি করেছেন। তার থেকে ৭৫ শতাংশ মমতার বাড়িতে পাঠিয়েছেন।'
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকেই সক্রিয় ED। রেশন দুর্নীতি মামলায় একাধিক এলাকায় চলছে তল্লাশি অভিযান। ED-র কলকাতা জোনাল অফিস আজ প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২ (পিএমএলএ) আইনকে মাথায় রেখে কলকাতা, বর্ধমান এবং হাবড়াতে মোট ৯টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই অভিযান নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও অন্যান্যদের সঙ্গে যুক্ত রেশন কেলেঙ্কারির মামলার জন্য বলেই খবর। এই এফআইআর বসিরহাট পুলিশ স্টেশনে দায়ের করেছিলেন ডেপুটি কমিশনার অব কাস্টম ঘোজাডাঙ্গা এলসিএস। সেখানে দাবি করা হয়, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) বা রেশনের গম পাচার হয়েছে। সেই নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। সেই মামলাতেই শনিবার ED-র এই অভিযান।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে রেশনের গম সরানোর কাজটি করেছে। কম দামে অবৈধ উপায়ে গম সংগ্রহ করা হতো। কাজটা সরবরাহকারী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার এবং দালালরা একসঙ্গে মিলে করত। তারপর বিপুল পরিমাণ গম অবৈধভাবে সরবরাহ চেইন থেকে সরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করা হতো। গমের উৎস গোপন করতে অভিযুক্তরা ফুড কোর্পেরেশন অব ইন্ডিয়া (FCI) এবং রাজ্য সরকারের চিহ্নযুক্ত আসল বস্তা খুলে অন্য বস্তায় ভরে নিত। যার ফলে আর চিহ্ন দেখা যেত না। এরপর সেই গমকে বৈধ স্টক হিসেবে দেখিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি বা রফতানি করা হত। এই দুর্নীতি মামলাতেই নাম জড়িয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের।
প্রসঙ্গত, হাবরায় কিছুদিন আগেই প্রচার করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ক্লিনচিট দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে। জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি।' মমতা আরও বলেছিলেন, 'CPIM পার্টি দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ভুয়ো ছিল। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে ওঁকে।'