শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামেও ১০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন তিনি। তবে নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও একটি আসন থেকেই বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় পা রাখতে হবে তাঁকে। ছেড়ে দিতে হবে যে কোনও একটি আসন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, কোন আসন ছাড়বেন শুভেন্দু?
বুধবার নন্দীগ্রামে BJP কার্যালয়ে শুভেন্দু পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। তিনি সকলকে জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই যে কোনও একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে তাঁকে। শুভেন্দু বলেন, 'সব সিদ্ধান্ত তো আমি নিতে পারি না। আমার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত তাঁদের কাছেই দেব।' তাঁর সংযোজন, 'যা-ই হোক, আমি কর্তব্য থেকে সরে যাব না। আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ। তাই সবটা একা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। দলের নেতারা যা বলবেন, তাই হবে।'
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রাম আসনটিই সম্ভবত ছেড়ে দিতে চলেছেন শুভেন্দু, রাখবেন ভবানীপুর আসনটি। এদিন নন্দীগ্রামের মানুষকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'বলেছি তো আপনাদের হলদিয়া আর নন্দীগ্রাম জুড়ে দেব। গোকুলনগরের হাসপাতাল এমন করে বানাব যাতে রেফার না করতে হয় কাউকে। ৬ মাসের মধ্যে জলের কানেকশন করে দেব।'
শুভেন্দুর আরও আশ্বাস, '৭ জানুয়ারি ভুলিনি ভুলব না, আসব। ১৪ মার্চ আসব, ১০ নভেম্বর গড়পল্লীতে আসব। জন্মাষ্টমীতে পাবেন, দোলপূর্ণিমা, মহাপ্রভুর রথযাত্রাতে পাবেন, বিশ্বকর্মা পুজো, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং রামনবমীতে পাবেন। পাশের গ্রামেই গিয়েছিলাম গণেশ পুজোয়, আবার যাব। সব মন্দির সেজে উঠবে, বিদ্যালয়গুলো যেটুকু আমি করেছি, বাকিটাও আমার দ্বারাই হবে। আর গুণ্ডা আর চোরেদের যা করার, আমার উপর ছেড়ে দিন।'
কর্মী-সমর্থকদের তরফে থেকে 'আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই' স্বর ওঠে এদিন নন্দীগ্রামে।