অভিযোগ, Asansol Engineering College-এর স্ট্রংরুমের কাছে একটি সিল করা খাম উদ্ধার হয়েছে।ভোটগণনার আগেরদিনই উত্তেজনা আসানসোলে। অভিযোগ, Asansol Engineering College-এর স্ট্রংরুমের কাছে একটি সিল করা খাম উদ্ধার হয়েছে। আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, ওই খামের ভিতর থেকে একাধিক নথি এবং একটি বন্ধ মোবাইল ফোন মিলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।
রবিবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপির অভিযোগ, স্ট্রংরুমের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি তল্লাশি করতেই ওই সন্দেহজনক খাম উদ্ধার হয়। খামের গায়ে রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখ ছিল বলেও দাবি বিরোধী শিবিরের।
এই ঘটনার পরই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা স্ট্রংরুমের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি নথির সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন কী ভাবে সিল করা খামের ভিতরে এল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। বিজেপির দাবি, এর পিছনে বড় ধরনের কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটগণনার আগে এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ ওই খাম থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং নথিগুলি বাজেয়াপ্ত করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, খামের উৎস কোথায়, ভিতরে কী ধরনের নথি ছিল এবং কী পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোনটি সেখানে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর স্ট্রংরুম চত্বরের নিরাপত্তাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, রাজ্যে ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় EVM, পোস্টাল ব্যালট এবং স্ট্রংরুম নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার একাধিক গণনাকেন্দ্র ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
কয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কলকাতার Sakhawat Memorial School-এর স্ট্রংরুমে গিয়ে EVM এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন কেন্দ্রে 'সন্দেহজনক গতিবিধি' লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই আবহেই আসানসোলের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল। বিজেপির একাংশের দাবি, ভোটগণনার আগে স্ট্রংরুম এবং সংরক্ষিত নথি নিয়ে কমিশনের আরও স্বচ্ছ ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্য দিকে প্রশাসনের দাবি, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। ভোটগণনার আগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।