ফাইল ছবিসুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ বার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ব্যাপক হারে নামানো হয়েছে সাঁজোয়া গাড়ি। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার খরচই এখন রাজ্যের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নবান্নের প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে হিসাবনিকাশ। এই বিপুল ব্যয়ের ভার ঠিক কতটা বাড়বে রাজ্যের কোষাগারের ওপর।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভারী আর্মার প্লেটিং-সহ একটি সাঁজোয়া গাড়ি গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটার চলতেই খরচ করে প্রায় ১ লিটার ডিজেল। অর্থাৎ, শতাধিক এমন গাড়ি রাস্তায় নামলে তেলের খরচ যে বিপুল হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রাথমিক হিসেবে আশঙ্কা, শুধুমাত্র এই গাড়িগুলির জ্বালানি বাবদই রাজ্যের উপর কয়েক কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি। শুরুতে যেখানে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল, পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২,৬৫০ কোম্পানিতে। এমনকি ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতেও আরও ৭০০ কোম্পানি বাহিনী রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা খাতে ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
২০২৫ সালের নতুন কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দৈনিক নির্বাচন ভাতা ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এতে করে মোট খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সাঁজোয়া গাড়িগুলি আনা হয়েছে কাশ্মীর থেকে। প্রায় ২,৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেগুলি পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গে। যাওয়া-আসা মিলিয়ে এবং ভোটের সময় বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়ার ফলে প্রতিটি গাড়ি গড়ে প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ চলবে বলে অনুমান। ফলে শুধুমাত্র যাতায়াত ও টহল মিলিয়ে তেলের খরচই প্রায় আড়াই কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।