ফাইল ছবিরাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে উঠে এল এক তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর এবং স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
নিজেদের হলফনামায় দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১৬ জন প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁরা নিরক্ষর বা অক্ষরজ্ঞানহীন। তুলনায়, প্রথম দফার ১৫২টি আসনে এই সংখ্যা ছিল ১৪। পাশাপাশি, দ্বিতীয় দফায় ৩৯ জন প্রার্থী নিজেদের শুধুমাত্র ‘লিটারেট’ বা অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রথম দফায় এই সংখ্যা ছিল ২৯। ফলে সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর অনুপাত কিছুটা বেশি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এই তথ্য ভোটারদের অবগত করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করে। সেই হলফনামার ভিত্তিতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের উপর একটি বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মোট ৬৪৬ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, ৭২১ জন বা প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বে শিক্ষিত। এছাড়া ২০ জন প্রার্থী ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী।
প্রথম দফার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তখন পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭০৮। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ছিলেন ৬৯৮ জন এবং ডিপ্লোমাধারীর সংখ্যা ছিল ২৬।
সব মিলিয়ে, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার এই পরিসংখ্যান রাজ্যের নির্বাচনী চিত্রে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা একমাত্র মানদণ্ড না হলেও, প্রার্থীদের প্রোফাইল সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।