ইউপির ডিআইজি অজয় পাল শর্মা।-ফাইল ছবিবিধানসভা ভোটের উত্তপ্ত আবহে বড় চমক দিল নির্বাচন কমিশন। শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেই থেমে থাকছে না কমিশন, বরং আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হচ্ছে কড়া মেজাজের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহলে তিনি ‘সিংহম’ নামেই বেশি পরিচিত।
কেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই নিয়োগ?
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের দিনই আসল পরীক্ষা। এই দফার অন্যতম স্পর্শকাতর জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যা তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত।
ভাঙড়, ক্যানিং, মিনাখাঁ, বাসন্তী, প্রতিটি জায়গাতেই অতীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন, যার শীর্ষে রয়েছেন অজয় পাল শর্মা।
কে এই অজয় পাল শর্মা?
২০১১ ব্যাচের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার জীবনপথ বেশ আলাদা। লুধিয়ানার বাসিন্দা তিনি প্রথমে চিকিৎসক হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করেন। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জারিতে পাশ করার পর চিকিৎসা পেশা ছেড়ে যোগ দেন পুলিশে।
বর্তমানে প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। অপরাধ দমনে তাঁর কড়া অবস্থান এবং একাধিক এনকাউন্টার অভিযানের জন্যই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে তাঁর খ্যাতি তৈরি হয়েছে।
কমিশনের কৌশল না কি বিতর্কের সূত্রপাত?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নিয়োগের মধ্যে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক বার্তা, অশান্তি বা ভোট কারচুপির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কড়া ভাবমূর্তির অফিসারকে পাঠানো কমিশনের কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তাদের দাবি, একজন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’-কে এনে কি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে?
ব্যক্তিগত জীবনে বিতর্ক
অজয় পাল শর্মার কর্মজীবন যেমন আলোচিত, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বিতর্কের বাইরে নয়। তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছিলেন দীপ্তি শর্মা নামে এক মহিলা, যিনি নিজেকে তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেন। লখনউয়ের হাজরতগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে বিয়ের দাবি, একাধিক সম্পর্ক, এমনকি প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগও ওঠে।
অবশ্য অজয় পাল শর্মা এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও বৈধ বিবাহ হয়নি এবং তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।