ফাইল ছবিঅরূপ বিশ্বাসের নির্বাচনী পরাজয়ের পরই ফের শিরোনামে উঠে এল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই বহুল আলোচিত ‘মেসি-কাণ্ড’। এতদিন নীরব থাকার পর অবশেষে মুখ খুললেন ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এতদিন চুপ ছিলেন, তবে আর নয়, এবার সমস্ত সত্য প্রকাশ্যে আনবেন।
সমাজমাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় সংক্রান্ত একটি ছবি পোস্ট করে শতদ্রু লেখেন, 'তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।' এর পাশাপাশি একাধিক পোস্টে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, যুবভারতী কাণ্ডের সময় মাঠে প্রবেশের বিশেষ কার্ড সরবরাহ করতে তাঁকে এবং তাঁর সংস্থাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন শতদ্রু।
যদিও এই অভিযোগে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। শতদ্রুর আরও দাবি, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এতদিন কেন নীরব ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে শতদ্রু জানান, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে গুরুতর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, 'আমাকে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, মুখ খুললে পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হবে। সেই ভয়েই এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু আর নয়, এবার সব সত্য সামনে আসবে।' এমনকি ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও মাঠে মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানের সময় ফুটবল তারকাকে ঘিরে আয়োজক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ শতদ্রুকে গ্রেফতার করে। প্রায় ৩৭ দিন পর তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান।
এই পরিস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পর শতদ্রুর এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের ইন্ধন জোগাচ্ছে। এখন দেখার, তাঁর দাবি অনুযায়ী ‘সব সত্য’ প্রকাশ্যে এলে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে।