ঋতুপর্ণা আঢ্য ফেসবুক প্রোফাইলে লেখা 'রাইজিং ক্রিয়েটর', ইনস্টাতেও ফলোয়ারের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে রিল থেকে বেরিয়ে এখন রিয়েল প্রচার করছেন তৃণমূলের বনগাঁ দক্ষিণের প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য। এমনকী এ-ও বলছেন, 'সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলেও কোনও সমস্যা নেই।' ফলোয়ার্স বাড়ানোর আগ্রহ ভুলে এখন ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া ২৬ বছরের এই ইনফ্লুয়েন্সার প্রার্থী। কতটা চ্যালেঞ্জিং? নিজেই জানালেন bangla.aajtak.in-এ
ফেসবুক হোক বা ইনস্টা, বরাবরই অ্যাক্টিভ ঋতুপর্ণা। দলের টুকটাক কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট দেখা গেলেও তাঁর প্রোফাইলে মূলত রয়েছে নিজের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিই। প্রোফাইলে ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে, পুজোপার্বণ থেকে শুরু করে নানাবিধ পোশাকে তৃণমূলের এই প্রার্থীর ফটো। এবার তাঁর সোশ্যাল ওয়ালে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভা ভোটের প্রচারের একের পর এক ছবি-ভিডিও। পঞ্চায়েত এলাকার ভোটারদের মন জয় করতে কাজে আসছে সোশ্যাল মিডিয়া?
ঋতুপর্ণা আঢ্য বলেন, 'ভাল সাড়া পাচ্ছি। আমি তরুণ প্রার্থী বলে মহিলা এবং যুব সম্প্রদায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। মানুষ নতুন মুখ পেয়েছে তাই সুযোগ দিতে চাইছে।' জেন জি ভোটারের সংখ্যা এবারের নির্বাচনে নেহাত কম নয়। তরুণ প্রার্থী ঋতুপর্ণা তাঁদের কাছে কী বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন? প্রার্থী বললেন, 'আমরা এমন পথে এগোচ্ছি যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং নবীনদের চিন্তাধারা থাকবে।' তবে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থানের অভাব যে রয়েছে, তা কার্যত স্বীকারই করে নিলেন তৃণমূলের এই প্রার্থী।
নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, 'এটা পঞ্চায়েত প্রধান এলাকা। এখানে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। আমি যদি বিধায়ক হই, সবার আগে চেষ্টা করব এই এলাকাকে পুরসভায় বদল করা। তরুণ প্রজন্ম যাঁরা বসে রয়েছে, তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই।' আর সেই লক্ষ্যকেই ভোটের ময়দানে তিনি কনটেন্ট হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঋতুপর্ণা এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছেন। তাঁর কথায়, 'এটা তো পঞ্চায়েত এলাকা তাই আমি সশরীরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছি। ঘরের মেয়ে হয়ে উঠতে চাইছি সকলের। সোশ্যাল মিডিয়া আমার লক্ষ্য নয়। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলের ঘরে ঘরে কাজ পৌঁছক তাই উন্নয়ন করতে চাই। তাতে যদি আমার সোশ্যাল মিডিয়া ইনঅ্যাক্টিভও হয়ে যায়, আপত্তি নেই।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পজিটিভ থাকতে বলেছেন ফলে কোনও 'নেগেটিভ ভাইব' চাইছেন না ঋতুপর্ণা। ফলে রেশন দুর্নীতিতে নাম জড়ানো এই তৃণমূল প্রার্থী কোনও বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তবে উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ঋতুপর্ণার বাবা শঙ্কর আঢ্য এবং মা জ্যোৎস্না আঢ্য দু'জনেই বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান। তিনিও বর্তমানে বনগাঁ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। বাবার নাম জড়ায় রেশন দুর্নীতিতে। থাকতে হয় জেল হেফাজতেও। তাঁকেও নজরদারিতে রেখেছিল CBI। আবার একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর মা জ্যোৎস্নার বিরুদ্ধে। এই মামলায় ঋতুপর্ণাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।