মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকেমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ভাঙন শুরু? প্রশ্নটা উঠছে। বুধবার জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে মিটিং করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে অনুপস্থিত রইলেন ১০ জন জয়ী বিধায়ক। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, ১০ জন না থাকার কারণ অন্য। কেউ কেউ নাকি জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের সাহায্যের জন্য থাকতে পারছেন না। কেউ আবার জানিয়েছেন মেডিক্যাল এমার্জেন্সি।
৬৯ জন উপস্থিত ছিলেন
বুধবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ৮০ জন জয়ী বিধায়ককে ডেকেছিলেন কালীঘাটের বাড়িতে মিটিংয়ে। ৬৯ জন উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদে এখনও ইস্তফা দেননি মমতা। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে আপাতত তিনি বিধায়কও নন। ফলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। অন্যদিকে বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ৯ মে অর্থাত্ ২৫শে বৈশাখের সকালে ব্রিগেডে শপথ নেবেন। এদিকে পূর্বের মুখ্যমন্ত্রী এখনও পদত্যাগই করলেন না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানিমূলক ভাষণ ও I-PAC-এর উপর অন্ধ ভরসাতেই ডুবতে হল তৃণমূলকে?
এহেন পরিস্থিতিতে ১০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের ক্ষোভ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানিমূলক ভাষণ ও I-PAC-এর উপর অন্ধ ভরসাতেই ডুবতে হল তৃণমূলকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার কথায়, 'পুরনোদের পাত্তা দেওয়া হল না। নীচু তলার নেতারা দেদার তোলাবাজি করেছে। দলে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। দলের ভিতরেই আদি নেতা ও কর্মীরা অন্তর্ঘাত করে থাকতে পারে।'
অভিষেকের লড়াইকে শ্রদ্ধা জানানো
বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে, দলের পুরনো থেকে নতুন, সব বিধায়করাই দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে স্যালুট জানান। এমনকী অভিষেকের সমালোচনা করলে দল বরদাস্ত করবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে অস্বস্তি বোধ করেছেন। এমনকী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমদের মতো দলের প্রবীণ নেতাদেরও অভিষেকের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে লড়াইকে সম্মান দিতে হয়েছে বুধবার।
কালীঘাটে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, 'আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করাবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? আমি সব তথ্য প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি CEO ও RO-কে সব জানিয়েছি। অভিযোগ কাকেই বা করব। সবাই তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এমন ধরনের নির্বাচন আমি জীবনে দেখেনি। কলেজ লাইফ থেকে আমি অনেক ভোটে লড়েছি। এমন দেখিনি। এমনকি ২০০৪ সালে আমি একা লড়েছিলাম। আমি রাজীব গান্ধি ,অটল বিহারি বাজপেয়ী, আই কে গুজরাল সহ অনেকের সরকার দেখেছি। এমন সরকার দেখিনি। এরা নিজেদের সৌজন্যতা ভুলে গেছে।'