সুজিত বসুভোট মিটতেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র তলবে সাড়া দিলেন রাজ্যের বিদায়ী দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। শুক্রবার নির্ধারিত সময়েই ইডি দফতরে হাজির হন তিনি।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সুজিত বসুকে তলব করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে থেকেই এই মামলার তদন্তে সুজিত বসুকে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে গড়ায়। গত ২৩ এপ্রিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন, নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ১ মে ইডিতে হাজিরা দিতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই ভোটপর্ব মেটার ঠিক একদিন পরেই ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হলেন সুজিত বসু।
সাক্ষী হিসেবে তাকে ডাকা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছতেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের তেমন উত্তর দেননি সুজিত বসু। কোনও নথি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, 'কোনও নথি আনতে বলেনি, কোর্টের অর্ডার নিয়ে এসেছি। বাকি কথা পরে বলব।' যদিও তাঁর হাতে বেশ কিছু নথিও ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুজিত জানান, ওগুলি আদালতের অর্ডার কপি।
শুক্রবার সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে সমুদ্র বসু এবং দুই আইনজীবী। এর আগে ইডি সুজিত বসুকে তিনবার তলব করেছিল। তদন্তের স্বার্থে গত বছর লেকটাউনে মন্ত্রীর দুটি বাড়ি এবং তাঁর অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর ধাবাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, সেই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল। এই মামলার সূত্রে সুজিত বসুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাইকেও এর আগে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অবশেষে শুক্রবার তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন মন্ত্রী। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মন্ত্রীর এই হাজিরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তথ্য হাতে পায় ইডি। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এরপর ২০২৩ সালে পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সুজিত বসুর লেকটাউনের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।