পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলামোটামুটি শান্তিতে মিটেছে ভোটপর্ব। তবে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বেড়েছে হিংসা। ইতিমধ্যেই বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুই দলই তাদের কর্মীরা খুন হয়েছে বলে দাবি করছে। শুধু তাই নয়, দিকে দিকে ভাঙচুর, লুঠ চলছে বলেও অভিযোগ। আর এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা থামাতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে।
রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই বৈঠক হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফের ডিজি জি.পি সিং এবং বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। এছাড়া ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপি, বিভিন্ন কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার (সিপি), জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডাররা।
এই বৈঠকে ভোট পরবর্তী হিংসা ও তার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে চাইছে সকল নিরাপত্তা বাহিনী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর পক্ষে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা বাড়তি টহল ও উপস্থিতি বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মোতায়েন থাকা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবসময় সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকে সব বাহিনীর মুখেই উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার কথা। এটাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে যেই বিষয়গুলি উঠে এল...
• হিংসা ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ
• কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করা
• স্পর্শকাতর এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ও ফোর্সের টহল
• ডিএফসি-দের মাধ্যমে ২৪x৭ নজরদারি বজায় রাখা
বাহিনীর দাবি, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা রক্ষা করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা চাইছে বাংলার ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকে। আর সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে মাটিতে নেমে কড়া হাতে সব নজরদারি চালানো হবে বলে জানালেন তিনি।
মাথায় রাখতে হবে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। একের পর এক মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করে। এমনকী বুধবার রাতে গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আর এই ঘটনার পরই রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তারপরই এই বৈঠক করে বাহিনী।