হাইকোর্টে মামলা তৃণমূলেরভোটের আগেই অন্তত ৮০০ কর্মী গ্রেফতার হতে পারেন। আর সেই তালিকায় থাকতে পারেন একাধিক হেভিওয়েট নেতাও। এমন আশঙ্কা করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর প্রথম দফার ভোটের ঠিক দুইদিন আগে এহেন মামলা দায়ের বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ৮০০-এর মতো তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই মতো গ্রেফতারির একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা ধরে ধরে গ্রেফতারি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তৃণমূল।
কোন কোন হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে?
মামলায় একাধিক প্রথম সারির নেতার গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তালিকায় রয়েছেন বেহালার রত্না চট্টোপাধ্যায়, রাসবিহারীর সোনা পাপ্পু, কোচবিহারে পার্থ প্রতীম রায়, উদয়ন গুহ, আলিপুরদুয়ারের অজিত বর্মণ, পূর্ব মেদিনীপুরের আনিসুর রহমান, মালদহের আব্দুল রহিম বক্সী, মুর্শিদাবাদের মনিরুল ইসলাম, মেহেবুব আলম, নারায়ণ গোস্বামী, শেখ শাজাহান, বারিক বিশ্বাস, বাবু মাস্টার, পিন্টু প্রধান, কসবার সুশান্ত ঘোষ ও সোনারপুরের নজরুল ইসলামের মতো নেতারা।
ইতিমধ্যেই অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে
এবারের ভোট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া বার্তা দিয়ে এসেছে কমিশন। সেই মতো নজিরবিহীন সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত এরিয়া ডমিনেশন চালাচ্ছে। পাশাপাশি আনা হয়েছে কম্যান্ডো। সেই সঙ্গে বুলেট প্রুফ গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশ এবং জেলাশাসকদের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মতো চলছে নাকা চেকিং। এমনকী ভোটের আগেই অপরাধীদের জেলে ভরতে শুরু করেছে পুলিশ বলে দাবি করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই ১৩৫ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আর এমন অবস্থাতেই তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। সেই মতো তাদের পক্ষ থেকে আগেভাগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এই কাজটি করা হয়েছে প্রথম দফা ভোট ২৩ এপ্রিলের ঠিক দুইদিন আগে। এখন দেখার বিষয়টা ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়। তার উপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।