স্বপ্না বর্মণ, শিবশঙ্কর পাল, প্রতীক মণ্ডল ও অশোক দিন্দাপশ্চিমবঙ্গে বিরাট জয়ের পথে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের পর দক্ষিণবঙ্গেও একের পর এক আসনে পিছিয়ে পড়ছে তৃণমূল। জয়ের ব্যবধান বাড়তেই একের পর এক জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসব। কোথাও বিতরণ করা হচ্ছে মিষ্টি, কোথাও চলছে আবির নিয়ে সেলিব্রেশন। তবে খেলার মাঠের অনেক তারকাই এবার লড়ছেন বিধানসভা নির্বাচনে। তাদের কী অবস্থা?
ভরত কুমার ছেত্রী- কালিম্পং আসন থেকে বিজেপি-র প্রার্থী ভরত কুমার ছেত্রী ২১,৪৬৪ ভোটে জয় পেয়েছেন। ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন গোলকিপার জয় পেলেন পাহাড়ে। ১২ রাউন্ডের গননা শেষে বড় ব্যবধানে জয় পেলেন তিনি। কালিম্পং শহরে নেপালি ব্রাক্ষ্মণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁদের সমর্থন ভরতের দিকে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কালিম্পং বিধানসভা এলাকায় লেপচা ভোট প্রায় ২৯ হাজার। সেই ভোট কাটাকাটি হতে পারে রুদেনের সঙ্গে জনশক্তি ফ্রন্টের প্রার্থী বার্নার্ড ব্রিটোর। তৃতীয়ত, কালিম্পংয়ের বাসিন্দাদের উন্নয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
অশোক দিন্দা- অশোক দিন্দা ভারতীয় ক্রিকেটে বড় নাম। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। খেলেছেন আইপিএল-এও। আবার রাজনীতির ময়দানে নেমেও তিনি সফল। ২০২১-এর নির্বাচনে ময়না বিধানসভা আসন থেকে দাড়িয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন পেস বোলার। সেবার প্রবল সবুজ ঝড়ের মধ্যেও নিজের গড় ধরে রেখেছিলেন দিন্দা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি যে অনেকটাই এগিয়ে থেকে শুরু করেছিলেন তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। আর সোমবার ফল প্রকাশ হওয়ার শুরু থেকেই এগিয়ে যান বাংলার পেসার।
শিবশঙ্কর পাল- বাংলা ক্রিকেটের আরও একজন তারকা এবার দাঁড়িয়েছিলেন তুফানগঞ্জের মতো 'কঠিন' আসন থেকে। স্বাভাবিকভাবেই লড়াই ছিল বেশ কঠিন। ক্রিকেটের ময়দানের পর, এবারেই প্রথম ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন ম্যাকো। সোমবার শিবশঙ্কর পাল প্রায় ১১ হাজার ভোটে পিছিয়ে। গতবার এই বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন বিজেপি’র মালতী রাভা রায়। ষষ্ঠ দফার গণনা শেষে তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৪০৪৬৭। সেখানে বাংলার প্রাক্তন পেসারের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৯৪৯১।
স্বপ্না বর্মণ- এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথেলনে সোনা জেতা স্বপ্না বর্মণ অনেকটাই স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিলেন রাজনীতির ময়দানে। তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক শুরু হয়েছিল দলের অন্দরে। শুধু তাই নয়, তাঁর রেলের চাকরি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তবে সব বাধা কাটিয়ে তিনি প্রার্থী হলেও, অনেক পিছিয়ে তিনি। ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন বাংলার সোনার মেয়ে।
বিদেশ বসু- প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসু গতবার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ছিলেন তিনি। তবে ২০২৬ সালে তাঁর আসন বদলে গিয়েছে। প্রাক্তন ফুটবলারকে সপ্তগ্রাম থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তৃতীয় দফার গণনার শেষে বিজেপি’র স্বরাজ ঘোষের থেকে বিদেশ ৬৫৬৩ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন।
প্রতীক মণ্ডল- মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আইএসএফ প্রার্থী করেছে রেফারি প্রতীককে। কড়া টক্কর দিচ্ছেন ইন্ডিয়ান স্যেকুলার ফ্রন্টের প্রার্থী। তৃণমূলের ঊষা রানি মণ্ডল যদিও এই কেন্দ্রে এই মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ব্যবধান খুব বেশি নয়। ফলে টক্কর খুব জোরদার।