নওদা ও রেজিনগর থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হুমায়ুনভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেইসঙ্গে নতুন দল তৈরি করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। ভোটের ময়দানেও চমক দিলেন হুমায়ুন। নওদা ও রেজিনগর এই দুটি আসন থেকেই জয় পেলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান ।
নওদা আসনে ৮৬,৪৬৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন হুমায়ুন। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রাণা মণ্ডলকে ২৭,৯৪৩ ভোটে পরাজিত করেছেন হুমায়ুন। রেজিনগর আসনে হুমায়ুন পেয়েছেন ১,২৩,৫৩৬ ভোট। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষের থেকে ৫৮,৮৭৬ ভোট বেশি পেয়েছেন হুমায়ুন। দুটো কেন্দ্রে তৃণমূল তৃতীয় হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একসময় তৃণমূলের চেনা মুখ ছিলেন হুমায়ুন। তবে দল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর নতুন দল করে নওদা ও রেজিনগর দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজ্য রাজনীতির আলোচিত চরিত্র হুমায়ুন। ২০১১ সালে ছিলেন কংগ্রেসের বিধায়ক। ২০১৬ সালে তিনি হন নির্দল বিধায়ক। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভরতপুরের তৎকালীন বিধায়ক হুমায়ুনকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে বাবরি মসজিদ গড়বেন ঘোষণা করেন। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও বেলডাঙা এলাকায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখান থেকেই জানিয়েছিলেন, এ বার তৃণমূলকে ‘শিক্ষা দিতে’ তাঁর নিজের দল ভোটে লড়বে। এমনকি, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী স্থির করবেন তিনি-ই।
নির্বাচনের আগেই বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন ডিল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেই একের পর এক নেতা কর্মী আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে যান। নির্বাচনের আগে কার্যত হুমায়ুনের দলের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও নওদা ও রেজিনগর থেকে জিতলেন হুমায়ুন।