Bhabanipur Constituency: ভবানীপুরের স্ট্রংরুম নিয়ে কী চলছে? বেনজির ঘটনার সাক্ষী বাংলা

তাঁর কথায়, 'গতকাল আমরা জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রী স্ট্রং রুমে গিয়েছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করি এবং পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে। আমি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, ভবানীপুরের ইভিএম সম্পূর্ণ নিরাপদ।'

Advertisement
ভবানীপুরের স্ট্রংরুম নিয়ে কী চলছে? বেনজির ঘটনার সাক্ষী বাংলাভবানীপুরের ইভিএম ও স্ট্রংরুম বিতর্ক
হাইলাইটস
  • শুভেন্দুর এজেন্টের কী দাবি?
  • কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা সহ দলীয় কর্মীরা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে
  • সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লাইভ ফুটেজ প্রদর্শনের দাবি

ভোটপর্ব মিটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন তোলপাড় স্ট্রংরুম পাহারা বিতর্কে। বৃহস্পতিবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে প্রায় ৪ ঘণ্টা খানেক ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই স্কুলের স্ট্রংরুমেই ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম-গুলি রয়েছে। অন্যদিকে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট ও আইনজীবী সুরজনীল দাস দাবি করলেন, ভবানীপুরের ইভিএম সুরক্ষিত।  অন্যদিকে আজ অর্থাত্‍ শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষুদিরাম অনুশীল কেন্দ্রে স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। 

শুভেন্দুর এজেন্টের কী দাবি?

তাঁর কথায়, 'গতকাল আমরা জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রী স্ট্রং রুমে গিয়েছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করি এবং পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে। আমি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, ভবানীপুরের ইভিএম সম্পূর্ণ নিরাপদ।' ৩০ এপ্রিল রাতে মমতা প্রায় চার ঘণ্টা কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে কাটান, যেখানে ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। তিনি রাতে সেখানে পৌঁছে মধ্যরাতের পর পর্যন্ত ছিলেন এবং গণনা প্রক্রিয়ায় কোনও কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করেন।

স্ট্রংরুমের সিসিটিভি-তে নজর কুণাল ঘোষের
স্ট্রংরুমের সিসিটিভি-তে নজর কুণাল ঘোষের

কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা সহ দলীয় কর্মীরা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে

তিনি জানান, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। এদিকে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা সহ দলীয় কর্মীরা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তাঁদের অভিযোগ, ইভিএম ও ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, 'স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মানুষের ভোট সুরক্ষিত রাখতে হবে। অভিযোগ পেয়ে আমি এখানে এসেছি। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে ঢুকতে দেয়নি। গণনা প্রক্রিয়ায় কোনও কারচুপি হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।'

শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজ
শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজ

সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লাইভ ফুটেজ প্রদর্শনের দাবি

স্ট্রং রুমের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যার জেরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। উভয়পক্ষই স্লোগান দেয়। তৃণমূলের তরফে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লাইভ ফুটেজ প্রদর্শনের দাবিও তোলা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, সব নিয়ম মেনেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, ইভিএম ও স্ট্রং রুম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা বাড়াতে কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডি কার্ড ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

Advertisement

তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সিসিটিভি ফুটেজে কিছু ‘বাইরের লোক’-কে স্ট্রং রুম এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব পক্ষকেই আগেই নিয়ম সম্পর্কে জানানো হয়েছিল এবং কোনও সময়েই সিসিটিভি বন্ধ করা হয়নি। পরিস্থিতির চরম মুহূর্তে মমতা বলেন, 'এখানে ইভিএম রাখা আছে বলেই আমি এসেছি। অনেক জায়গায় কারচুপির অভিযোগ পেয়েছি। টিভিতে দেখে মনে হয়েছে নিজে এসে দেখা দরকার। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাধা দেয়, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীরা সিল করা ঘরের বাইরে পর্যন্ত যেতে পারেন। পরে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়। কোনও কারচুপি হলে আমরা লড়াই করব।'

POST A COMMENT
Advertisement