পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ফলপরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? গোটা বাংলাজুড়েই এখন এই একটা প্রশ্ন। দেড় মাসের টানটান লড়াইয়ের শেষে ফাইনাল রেজাল্ট। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। বাংলায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ আসন। একটি আসন কমে যাওয়ায় এখন তা ১৪৭। সোমবার দুপুরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, বাংলার শাসন আগামী ৫ বছর কার হাতে থাকবে?
এ বছর ভোটগ্রহণ হয়েছে দু'দফায়। ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২ আসনে হয়েছিল ভোট। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ৭টি জেলার ১৪২ আসনে। তবে ফলপ্রকাশ হবে ২৯৩টি আসনের। কারণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে নতুন করে ভোট হবে ২১ মে। ২৪ মে ফলপ্রকাশ।
এবারের মতো গত বিধানসভা ভোটে (২০২১) ফলপ্রকাশের আগেও অধিকাংশ এগজিট পোলে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বার সরকার গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতবার বিজেপি যে সব অঞ্চলে বেশি আসন পেয়েছিল, সেখানেই প্রথম দফার ভোট হয়েছিল। যদিও এগিয়ে তৃণমূলই। ২০২১ সালে ১৫২ আসনের মধ্যে ৯২টি পেয়েছিল মমতার দল। বিজেপি জিতেছিল ৫৯টি আসন।
আবার দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে তৃণমূলের গড়ে। ১৪২টি আসনের পরিসংখ্যানটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। তৃণমূল জিতেছিল ১২৩টি আসনে। মাত্র ১৮টিতে ফুটেছিল পদ্ম। এই আসনগুলি মূলত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার। এবার এই আসনগুলিতে বিজেপির পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে বাংলার রায়।
এবার ভোটও পড়েছে বাম্পার। ৯০ শতাংশের বেশি। সাধারণ বর্ধিত ভোটের হার প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ইঙ্গিত দেয়। তবে পাটিগণিতের অঙ্ক মিলছে না। কারণ, এসআইআর। ৯১ লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের নাম বাদ। একাধিক বিধানসভায় গতবারের মার্জিনের চেয়ে বেশি ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে এসআইআরে।
ভোটের ফ্যাক্টর
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় বিধানসভা ভোটের বড় ফ্যাক্টর এসআইআর। সেই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো প্রকল্প। যা ফায়দা দিতে পারে শাসক দল তৃণমূলকে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটের বেশিরভাগটাই যোগ হবে তাদের ঝুলিতে। তবে শিল্পায়ন, বেকারত্বের মতো ইস্যু যেতে পারে বিজেপির পক্ষে। সেই সঙ্গে মেরুকরণও বড় ভূমিকা নিতে ভোটের ফলে।