দুই দল এভাবেই পরস্পরের বিরুদ্ধে ভিডিও বিজ্ঞাপন বানিয়ে সমানে প্রচার চালাচ্ছে।West Bengal Elections 2026: কোনওটায় দেখা যাচ্ছে, জেলখানায় দাপুটে তৃণমূল নেতারা। আবার কোনওটায় গেরুয়া পতাকা হাতে বাজার তছনছ করছেন বিজেপি কর্মীরা। না না, সত্যিকারের ভিডিও নয়। সবই AI। দুই দল এভাবেই পরস্পরের বিরুদ্ধে ভিডিও বিজ্ঞাপন বানিয়ে সমানে প্রচার চালাচ্ছে।
AI-এর যুগ। ব্যবসা-চাকরি থেকে শুরু করে রোজকার জীবন, সবেতেই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দাপট। তাহলে পলিটিক্স-ই বা বাদ যায় কেন? বিধানসভা ২০২৬-এর আগে তাই ভোটের প্রচারেও দেদার AI-এর ব্যবহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে বিনিয়োগে কার্পণ্য করছে না কেউ-ই। তবে ইনস্টাগ্রামে AI দিয়ে মজার মজার কন্টেন্ট বানানোর দৌড়ে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে, বিজেপিও বাদ যাচ্ছে না। তারাও নানা AI কন্টেন্ট দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AICT) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে AI ব্যবহার করে তৈরি প্রায় ৫৬টি শর্ট ভিডিও পোস্ট করেছে। বিজেপি ৪৩টি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে AI-এর ব্যবহার আছে।
ইন্ডিয়া টুডে বিজেপি, তৃণমূল এবং সিপিআই(এম)-এর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১,৫০০টি ইনস্টাগ্রাম রিল খতিয়ে দেখেছে। প্রতিটি দলের ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত শেষ ৫০০টি পোস্টও দেখা হয়েছে। তাতে নানা মজার মজার বিষয় উঠে এসেছে।
AI ভিডিও এত জনপ্রিয় কেন?
এর উত্তর খুবই সহজ। মানুষ এই ভিডিও বেশি দেখছে। হিসাব বলছে, AI ভিডিওতে গড়ে প্রায় ৬,৬০০ লাইক পড়ছে। যেখানে সাধারণ ভিডিওতে লাইক প্রায় ৩,৫০০। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ! ফলে রাজনৈতিক দলগুলিও এই পথে হাঁটছে।
কী ধরনের ভিডিও তৈরি হচ্ছে?
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে না ঘটলেও AI দিয়ে এমন দৃশ্য তৈরি করা হচ্ছে, যা দেখতে একেবারে সত্যি মনে হয়। কোথাও নেতাদের জেলে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও আবার ব্যবসায়ীদের হেনস্থা করার দৃশ্য। এই সব ভিডিওর মাধ্যমে ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে।
পুরনো চরিত্র, নতুন কায়দা
AI ব্যবহার করে পুরনো বাংলা গল্প বা সিনেমার চরিত্রকেও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। যেমন 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ঠাকুরমা। আবার গুপী-বাঘা, ব্যোমকেশ; এই সব চরিত্রও ব্যবহার হচ্ছে। 
ভুয়ো ভিডিও নয় তো?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিওকে অনেকে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। AI সম্পর্কে জ্ঞান নেই, এমন সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না কোনটা সত্যি, কোনটা নয়। বিশেষত করে বয়স্ক বা প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে অনেকেই AI কী, তা জানেন না। তাই এই ভিডিওগুলি অনেকেই সত্যি ভেবে ফেলছেন।
নিয়ম কী বলছে?
সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা Meta জানিয়েছে, AI দিয়ে তৈরি ভিডিও হলে তা স্পষ্ট করে জানানো উচিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, বাংলার ভোটে এবার AI বড় ফ্যাক্টর। প্রচারের ধরন বদলাচ্ছে দ্রুত। কিন্তু প্রশ্ন একটাই; এই প্রযুক্তি কি ভোটারদের সঠিক তথ্য দিচ্ছে, না কি ভুল পথে চালিত করছে? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন সমালোচকরা।