Women Unemployment Bengal: বেশি শিক্ষিত হলেই মিলছে না চাকরি, উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের বেকারত্ব বেশি; বলছে পরিসংখ্যান

West Bengal Elections 2026: ভোটের আগে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা। কিন্তু বাস্তবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে বাংলার মহিলারা। পরিসংখ্যানই তা বলছে। 

Advertisement
বেশি শিক্ষিত হলেই মিলছে না চাকরি, উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের বেকারত্ব বেশি; বলছে পরিসংখ্যানবাস্তবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে বাংলার মহিলারা। পরিসংখ্যানই তা বলছে। 
হাইলাইটস
  • ভোটের আগে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা।
  • বাস্তবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে বাংলার মহিলারা।
  • দেখা যাচ্ছে, কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক কম।

West Bengal Elections 2026: ভোটের আগে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা। তবে বাস্তবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে বাংলার মহিলারা। পরিসংখ্যানই তা বলছে। নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি; দুই শিবিরই তাদের ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য নানা সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে, বাস্তব ছবি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বেকারত্বের ক্ষেত্রে জাতীয় গড়ের তুলনায় ভাল অবস্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তখন রাজ্যে বেকারত্বের হার ছিল ৮.১ শতাংশ। দেশের গড় ছিল ১০ শতাংশ। অর্থাৎ, গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার কম ছিল। 

কিন্তু ২০২৫-এ ছবিটা বদলে যায়। রাজ্যে বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ১০.৬ শতাংশে। জাতীয় গড় ৯.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ২০২৫-এ রাজ্যের বেকারত্বের হার গোটা দেশের তুলনায় একটু হলেও বেশি।

অল্পবয়সী তরুণীদের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে রাজ্যে যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে বেড়ে হয় ১১.৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে সেই হার প্রায় একই জায়গায় রয়ে গেছে। খুবই সামান্য কমেছে। অর্থাৎ, কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে মেয়েদের পরিস্থিতির গত ২-৩ বছরে অবনতি হয়েছে।

অন্যদিকে, যুবকদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল (Stable)। ২০২২ সালে পুরুষদের বেকারত্বের হার ছিল ৯.৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭.৭ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে আবার বেড়ে হয় ১০.২ শতাংশ।

শিক্ষার সঙ্গে বেকারত্বের সম্পর্ক
দেখা যাচ্ছে, কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক কম। কিন্তু শিক্ষার স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রকট। স্নাতকোত্তর মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৫.৪ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২.৯ শতাংশ। একইভাবে স্নাতক স্তরেও মহিলাদের বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। 

সরকারি উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প চালু হয়েছে। যেমন প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, জন শিক্ষণ সংস্থান এবং ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোমোশন স্কিম। এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্যই হল যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির সুযোগ তৈরি করা। একইভাবে রাজ্য সরকারেরও উদ্যোগে চাকরির পরীক্ষার প্রশিক্ষণ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, জব ফেয়ারের আয়োজন হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাস্তবে শিক্ষিত মহিলাদের কি এতে কোনও লাভ হচ্ছে? তাঁরা কি আদৌ এই প্রকল্পগুলিতে অংশ নিচ্ছেন?

Advertisement

রাজনৈতিক দলগুলি ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য ভাতা, আর্থিক সহায়তা, নিরাপত্তা; এই সব প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়লে সেই প্রতিশ্রুতির কতটা মূল্য থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। ভোটের আগে এই পরিসংখ্যান নতুন করে ভাবাচ্ছে বাংলার মানুষকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

POST A COMMENT
Advertisement