ট্রাইব্যুনাল দফতর ভোটার লিস্টে নাম ওঠার শেষ দিন মঙ্গলবার। হয় এস্পার, নয় ওস্পার। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নির্ধারিত হবে ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপরই। কিন্তু অর্ধেক বেলা কেটে গেলেও এখনও আবেদনকারী 'ডিলিটেড' ভোটারদের কাছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। আদৌ এই আবেদনকারীদের নামের নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে কিছু জানাননি ট্রাইব্যুনালের নোডাল অফিসার।
প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোট ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। তার আগে ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার পর্যন্ত বাদ পড়াদের আর্জি স্বীকৃতি পেলে তাঁদের নাম নিয়ে একটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ এমনটাই। তবে এই নিয়ে এদিন সকালেও কোনও সাড়াশব্দ নেই কলকাতার অদূরে ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর জলসম্পদ দফতরে জোকার ট্রাইব্যুনালের অফিসে। যেখানে ১৯ টি ট্রাইব্যুনাল বসেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে। নিরাপত্তা আঁটসাঁট সেই চত্বরে। লোহার ব্যারিকেড করা গেট পেরনোর সাধ্য কারও নেই। কিন্তু সেই নিরাপত্তায় ঘেরা দূর্গের অন্দরে কী হচ্ছে, তা অজানা।
CEO মনোজ আগরওয়াল সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম উঠবে তাঁদের নাম ভোটার লিস্টে তুলে দেব।' কিন্তু কখন তোলা হবে সেই নাম? কীভাবে আবেদনকারীরা জানতে পারবেন, তাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে ট্রাইব্যুনালে? আদৌ ২৩ তারিখ এই আবেদনকারীরা ভোট দিতে পারবেন কি না, সেটাই বা কীভাবে জানা যাবে?
এ প্রসঙ্গে কমিশনের কাছেও কংক্রিট কোনও তথ্য নেই। SIR সংক্রান্ত বিষয়ক বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বলেন, 'আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। নোডাল অফিসার কিংবা হাইকোর্টই এর উত্তর দিতে পারবে। তবে আমরা তো রাতের দিকেই সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করেছি। তাই আমাদের কাছে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা এলেই আমরা তা অন্তর্ভূক্ত করে দেব। রাতের মধ্যে তা চলে এলে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হবে।'
কিন্তু ক'জন আবেদনকারীর নাম আদৌ উঠবে, তা নিয়ে এখনও কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। কমিশনের একটি সূত্র মারফত খবর, ট্রাইব্যুনাল কীভাবে কাজ করবে তার একটি SOP তৈরি করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জোকার ওই ট্রাইব্যুনাল চত্বর ফাঁকাই ছিল। মঙ্গলবার থেকে শুনানির নোটিশ আবেদনকারী প্রার্থীদের কাছে যাবে। সেক্ষেত্রে ওই ভোটাররা আইনজীবী সহ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারবেন। কিন্তু নোটিশ পাঠানো শুরু হলেও সেই নোটিশ দূরের জেলায় পৌঁছতে সময় লাগবে। ফলে শুনানি হয়ে নিষ্পত্তি হবে কি না এবং ২৩ এপ্রিল আদৌ ভোট দেওয়ার জন্য তাঁরা যোগ্য বিবেচিত হবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা। দ্বিতীয় দফা ভোটের বাকি আর ৬ দিন। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে আদৌ কত ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।