রাহুল গান্ধী শনিবার দুপুরের পর থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার ঘিরে উত্তাপ বাড়বে কলকাতা-সহ শহরতলিতে। আজ একাধিক জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্যে কংগ্রেসকে অক্সিজেন দিতে আজ প্রচারে আসছেন রাহুল গান্ধীও। ফলে মেগা জনসভা দেখতে চলেছে বাংলা। দুপুরের পর থেকেই তিন হেভিওয়েটের জনসভাগুলি শহরতলি থেকে আরও কলকাতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। জনসভার পাশাপাশি পদযাত্রা ও রোড শো-ও করবেন নেতা-নেত্রীরা। ফলে বঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক ৪ দিন আগে প্রচার ঘিরে জমজমাট রাজনীতি হতে পারে শনিবারই।
আজ চারটি জনসভা ও দুটি পদযাত্রা করবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনটি জনসভা ও একটি রোড শো করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তিনটি জনসভা করবেন রাহুল গান্ধী।
মোদী-মমতাকে একযোগে আক্রমণ রাহুল গান্ধীর। তিনি বলেন, 'কই মমতাজিকে তো কখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় না, তাঁর বিরুদ্ধে তো মামলা নেই। তাঁর বাড়ি তো কেড়ে নেওয়া হয় না। কারণ সকলেই জানেন ওঁদের সরাসরি লড়াই নেই। সত্যিই লড়াই হলে মমতাজির বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা থাকত, ওঁরও জিজ্ঞাসাবাদ হত।'
প্রথম দফার ভোটে বিজেপি ১১০টা সিট জিতে গিয়েছে বলে দাবি অমিত শাহের। ' কিছু কিছু মিডিয়া বলছে, গুন্ডারা ভত দিতে দেয় না। প্রথম পর্বে কোনও গুন্ডা বাইরে আসার সাহস পায়নি। আমি গুন্ডাদের বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্যা হচ্ছে। কাল তিনি বলেছেন, গুন্ডাদের নিয়ে কেন বলছেন? আমি বলে, তা হলে কি ওদের সঙ্গে গলা মেলাবো?'
'প্রত্যেককে পড়ানোর জন্য টাকা দেওয়া হবে। যদি সে গ্র্যাজুয়েট হয় তবে ৫০,০০০ টাকা পাবে।' প্রতিশ্রুতি শাহের
'হিরনকে আপনারা বিধায়ক বানিয়ে দিন, বাকি কাজটা আমরা করে দেব।' শ্যমপুরের সভা থেকে মন্তব্য অমিত শাহের।
'বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করতে হবে।' শ্যামপুর কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে ফের হুঙ্কার অমিত শাহের
কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্যামপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে 'বিজয় সংকল্প সভায়' বক্তব্য রাখবেন অমিত শাহ।
হুগলি থেকে রাহুল বলেন, 'মমতার উপর কোনও আক্রমণ হয় না। CBI, ED কিছু ওঁর পিছনে নেই। কারণ আসলে উনি BJP-র সঙ্গে লড়াই করে না। কংগ্রেস একমাত্র পার্টি যারা BJP-র সঙ্গে সরাসরি লড়াই করছেন। ভোটের সময়েই মোদীজি এখানে এসে মমতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ভোট শেষ হলে আর কিছু বলবেন না। কংগ্রেসকে তাই ভোট দিতে তাদের হাত শক্ত করুন। আমাদের প্রার্থীদের বিধানসভায় পাঠান। তবেই RSS-এর বিরুদ্ধে লড়াই হবে। মমতার দল মোদীকে হারাতে পারবে না। মোদীর আসল ভয় রয়েছে কংগ্রেস পার্টির থেকেই।'
রাহুল গান্ধী বলেন, 'তৃণমূল আমাদের দলের লোকেদের হত্যা করে। ২০২১ সালে মমতাজি প্রতিশ্রুতি করেছিলেন চাকরি দেওয়ার, কাউকে দেননি। ৮৪ লক্ষ বেকার যুবক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলা শিল্পতালুক ছিল, স্বাধীনতার লড়াইয়ে সর্বাগ্রে ছিল। সেই বাংলা আজ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর দল যেমন মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়, তেমনই বাংলায় হয়েছে আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের মামলা। যারা এই কাজ করেছে, তাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলার সরকার। এখানে BJP-কে সুযোগ করে দিচ্ছে মমতাজি। উনি যদি সঠিক ভাবে কাজ করতেন, দুর্নীতি না করতেন, আরজি করের মতো ঘটনায় প্রশ্রয় না দিলেন, তবে এখানে BJP-র কোনও স্থান হতো না। কংগ্রেসই একমাত্র BJP-র সঙ্গে লড়াই করে।'
মমতার বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থেকে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, 'গত ১০ বছরে মোদী দেশের মানুষের জন্য কিছু করেননি। যা করেছেন শুধুমাত্র কোটিপতি ব্যবসায়ীদের জন্য করেন। এই হুগলিতেই আগে জুট মিল, একাধিক কারখানা ছিল। যা কংগ্রেস করেছিল। নরেন্দ্র মোদীর মতোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কর্মসংস্থানের কোনও সুরাহা করেননি। যা নরেন্দ্র মোদী দেশে করছে, সেই একই কাজ মমতাজি বাংলায় করছেন। এরা কেবলমাত্র নিজেদের ফায়দা বোঝে। মমতাজি শিল্প খতম করে দিয়েছেন। বেকারত্ব বাড়িয়েছেন। বাংলায় কর্মসংস্থান চাইলে তৃণমূলে তাঁর আত্মীয় থাকতে হবে, নাহলে হবে না। তৃণমূলের গুণ্ডাদের জন্য কাজ হয় শুধু। এখানে হিন্দুস্তান মোটরস কারখানা ছিল। যা আগে বামেরা এবং এখন মমতা খতম করেছেন। নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতি করলে, মমতাও তাঁর চেয়ে কম কিছু নন। সারদা, রোজভ্যালি চিট ফান্ড দুর্নীতি তাঁর আমলেই।'
রাহুল গান্ধী: বাংলায় শিল্প এনেছিল কংগ্রেস। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী শিল্প নিয়ে চিন্তিত নন। তাঁরা ছোট ছোট শিল্প ধ্বংস করেছেন। মোদী দেশজুড়ে যা-যা করছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঠিক সেটাই করছেন।
'দেশে দু'রকম আদর্শের লড়াই চলছে। একতরফে সৌভাতৃত্ব ও কংগ্রেস, অন্যতরমে হিংসা এবং BJP। দেশে নরেন্দ্র মোদী এবং RSS-এর লোক যায়, সেখানে শুধু হিংসা ছড়ানোর কাজ করেন। ধর্ম ও জাতের মধ্যে লড়াই করিয়ে দেন। কিছুদিন আগে আমি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত যাত্রা করেছি। সেখানে একটাই বার্তা ছিল, BJP হিংসা ছড়িয়ে রেখেছে, সেখানে কংগ্রেসকে মহব্বতের দোকান খুলতে হবে। এটাই কংগ্রেসের আদর্শ। নরেন্দ্র মোদী বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদীকে পুরোপুরি কন্ট্রোল করেন। আমি লোকসভায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলায় মোদী পালিয়ে গিয়েছিলেন অধিবেশন থেকে। দেশের ডেটা, এনার্জি সিকিউরিটি বেচে তুলে দিয়েছে ট্রাম্পের হাতে। কারণ ট্রাম্পের কাছে রয়েছে ২টি হাতিয়ার। এক নম্বর হল এপস্টাইন। নরেন্দ্র মোদীর ইমেজের উত্তর রয়েছে সেটিতে। যেদিন ওই ফাইল খুলে যাবে, মোদী খতম। দ্বিতীয় হল, আদানি। তাঁকে গোটা দেশ বেচে দিয়েছে মোদী। ওদের কোম্পানির আসল নাম হল মোদানি।'
জামালপুর থেকে শাহি আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সব সরকারি কর্মচারীকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনা হবে। মা বোনেদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বেকার যুবকদেরও প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। মা-বোনেদের সরকারি বাসে কোনও টিকিট কাটতে হবে না। আলুর দাম কম হতে দেওয়া যাবে না। কৃষকদের ধানের দাম দেওয়া হবে।"
অমিত শাহ বলেন, "আমি গুন্ডাদের হুমকি দিয়েছি বলে দিদি আমার উপর রাগ করেছে। তো দিদি, গুণ্ডাদের হুমকি দেব নাকি ভালোবাসবো? এখন তো শুধুই হুমকি দিয়েছি, এরপর কথা না শুনলে গুন্ডারা জেলের মধ্যে থাকবে।"
অমিত শাহ এদিন জামালপুর থেকে বলেন, "পদ্ম ফুলের সরকার গড়ে দিন। ৫ তারিখ মতুয়া সমাজকে ভারতের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি সরকার।"
"TMC সরকারের আমলে মা-বোনেদের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে। ল কলেজ থেকে শুরু করে আরজি কর- সব জায়গায় মহিলারা অত্যাচারের শিকার হয়েছে।" জামালপুর থেকে এভাবেই তৃণমূলকে নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'কাল প্রধানমন্ত্রী এসে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের গালাগিলাজ দিয়ে গেলেন। আপনি ছাত্র সমাজকে গালিগালাজ করলেন। আপনার মণিপুরে তো সবচেয়ে বড় অরাজকতা চলছে। ভয়ে যাচ্ছেন না। ক্রাইম রেকর্ডে উত্তরপ্রদেশ একনম্বরে।'
জামালপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বাংলায় প্রথম দফায় নির্বাচন শেষ হয়েছে, প্রথম দফায় বিজেপি ১১০টি সিট জিতবে, TMC-র জায়গায় এখানে BJP সরকার গড়বে। ৪ মে বর্ধমানের সীতাভোগ খাইয়ে মোদীর মুখ মিষ্টি করব।"
'পহেলগাঁওতে যখন হামলা হয়, তখন তোমার সাঁজোয়া গাড়ি কী করে? যখন দিল্লিতে অ্যাটাক হয়, পাকিস্তানকে কিছু বল না কেন?' প্রশ্ন মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'প্রতিটি লোকসভা ভোটের আগে এসি গুহায় বসে থাকে। ধ্যান করে! কত বড় সাধু! কদিন আগে এসে ঝালমুড়ি খেয়ে গেলেন। ঝালমুড়ি তো বাড়ি থেকে তৈরি করে এনেছিলে। যে দোকানে খেয়েছো, ওখানে ক্যামেরা লাগানো ছিল আগে থেকেই। ঝাল তোমার লাগবে ৪ তারিখ গণনার পরে। অটলজির সময় খন পোখরান হল, তখন যে পাইপ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন আমি রেলমন্ত্রী ছিলাম। কাউকে এতদিন বলিনি।'
দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ জামালপুর এসে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'উনি এখন নৌকাবিহার করে বেড়াচ্ছেন! আমাদের হুগলি নদী কত পরিষ্কার! ওটা আর্মির বোট, ওটা দুর্ঘটনা হয় না। বুলেট কারে চড়ে, আর্মি বোটে চড়ে সফরে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের এখানে গঙ্গা আছে, তোমরা কোভিডের সময় উত্তরপ্রদেশ থেকে দেহ ভাসিয়ে দিয়েছিলে, মালদায় আমরা ধরেছিলাম। মোদীবাবু, আপনি তো থাকেন দিল্লিতে, একবার যমুনাতে ডুব দিয়ে আসুন না। দূষণে গেলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে তো!' শাহকে নিশানা করে বললেন, 'ঝুলিয়ে সোজা করব, এই ধরনের কথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারে না। এটা ক্রাইম। আমি উকিলদের বলছি, কেস করুন। সব ফুটেজ আমাকে পাঠাবেন। বহিরাগতরা যেন ঢুকতে না পারে, কল্যাণ ক্যাম্প করো। সব হোটেলদের বলব, সতর্ক থাকতে। চড়কের দিন ৪০০ জনকে নতুন গেরুয়া পরে, হাতেনাতে ধরা পড়েছে। আপনি বলছেন, ভোটের দিন এখানে থাকবেন। আপনি তো বাংলার ভোটার নন। কল্যাণকে আরও একটি ধন্যবাদ, আমাদের লোকেদের গ্রেফতার করার প্ল্যান করেছিল, ও কোর্টে লড়াই করে স্থগিত করিয়েছে।'
'দিল্লি আপনার রাজধানী, একবার যমুনাতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসুন না। ওটা দূষণে ভরে গিয়েছে', মোদীকে কটাক্ষ মমতার।
উত্তরপাড়ার জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি বলেন, "এদের থেকে আমি ধর্ম শিখব না। এরা ধর্মের নামে শত্রু, এরা হিন্দু ধর্মের সর্বনাশ করছে"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে বললেন, 'একটা নিজের নামে স্টেডিয়াম বানিয়েছে। মরে গেলে শুনেছি, লোকে স্টেডিয়াম বানায়, যেমন ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম, নেহরু স্টেডিয়াম। জ্যান্ত অবস্থায় নিজের নামে স্টেডিয়াম! শুনেছেন? কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বানাতে অজস্র মন্দির ভেঙেছে। দিল্লিতে বাঙালি উত্খাত করতে কালীমন্দির ভেঙেছে। ওদের মুখে ধর্মের কথা শুনব না।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'বিজেপি হল হানাদার, হল্লা বাহিনী। সত্যজিত্ রায়ের সেই গানটি মনে আছে? ও মন্ত্রীমশাই, ষড়যন্ত্রী মশাই। সব চালাকি ভেল্কি করেছো, চলবে না। তোমাকে দেখে ভোট দেয়নি, মানুষ এনআরসি-র ভয়ে ভোট দিয়েছে। এরা বাংলাকে চেনে না।'
পেট্রোলের দাম কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী কোনও উদ্যোগ নেয় না, গ্যাসের দাম ফের ভোটের পর বাড়বে, উত্তরপাড়ার জনসভা থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
বিজেপি-কে টার্গেট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, আজ নাকি ৫০টি হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। আমাদের তিনটি হেলিকপ্টার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছি। ১৯টি মুখ্যমন্ত্রী, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ আবার মিলিটারি সাঁজোয়া গাড়ি, সাথে ইডি, এনআইএ, আয়কর, সব নিয়ে চলে এসেছে। মোটাভাই নির্দেশ দিয়েছে গোপন মিটিং করে, ভোট স্লো করে দাও, লোকে যাতে ভোট দিতে না পারে। ইলেকশন হয়ে গেলেই আবার জ্বালানির দাম বাড়বে।
মমতা: বাংলায় সবাইকে নিয়ে চলে এসেছে। ITBT, BSF, ED, Income Tax, NIA, সাঁজোয়া গাড়ি, সব নিয়ে চলে এসেছে।
উত্তরপাড়ায় সভায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'এই মাটিতে প্রবীরদার দৌলতে অনেকবার এসেছি। ইন্দ্রনীল সেনকেও সমর্থন করুন। আমার সঙ্গে সদা থাকে। হেমন্ত সোরেনজির শরীরটা খারাপ হয়েছে। উনি গরমে তিনদিন মিটিং করে গিয়েছেন। তাই রিষড়া, ভদ্রেশ্বরও আমি কানেক্ট করেছি। ওরাও আমার কথা শুনছে। এই যে মাঠ, এখানে ফার্স্ট ডিভিশন খেলা হয়। কল্যাণ মাহেশের রথের জন্য অনেক কাজ করেছে। একদিকে জয়রামবাটি, কামারপুকুর, আমার অনেকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ওরা আমায় প্রায়ই ভাজা মুড়ি, সাদা বোঁদে পাঠায়।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিকার করতে বেরিয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করলেন অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, প্রথম দফার নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন, তিনি হারতে চলেছেন। আর সে কারণেই কংগ্রেসের থেকে প্রার্থীদের কেনার চেষ্টা চালাচ্ছেন I PAC-এর মাধ্যমে।
কাটোয়ায় জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ বললেন, 'বাংলায় আজ যা অবস্থা, ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশেও এরকম অবস্থা ছিল। লোক পালিয়ে যাচ্ছিল। উত্তরপ্রদেশে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরির পর, কোনও দাঙ্গা নেই। সব চাঙ্গা।'
নদিয়ায় যোগী আদিত্যনাথ বললেন, 'বিজেপি কার্যকর্তা সঞ্জয় ভৌমিককে হত্যাকারীরা খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ১৫২ আসনে যখন ভোট হচ্ছিল দেখলাম, প্রতিটি ভোটার চাইছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসুক। তাহলেই বাংলার পুরনো গৌরব ফিরবে। '
নদিয়ায় যোগী আদিত্যনাথ: বাংলায় সিন্ডিকেট, দুর্নীতির রাজ চলছে। এগুলি থেকে মুক্তির জন্য বাংলার বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার আনতে হবে।
আজ বাংলায় রয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এদিন সকালে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, 'টিএমসি-এর কিছুজন অনেক সময় বলে যে অসমে ডিটেনশন ক্যাম্পে বাঙালি হিন্দুরা রয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে চাই, অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে কোনও বাঙালি হিন্দু নেই। যদি কোনও বাঙালি হিন্দু থাকে, তাহলে আমি আজই পদত্যাগ করতে রাজি আছি। এটাও তৃণমূলের ভুল প্রচার।'
২৫ এপ্রিল বাংলায় মোট তিনটি জনসভা করবেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। হুগলির শ্রীরামপুরে জনসভা করবেন রাহুল, বিকেল ৪টে ৪৫-এ শহিদ মিনারের প্রাঙ্গনে জনসভা করবেন তিনি। শেষে বিকেল ৫টা ৪৫-এ মেটিয়াবুরুজে আরও একটি জনসভা করবেন রাহুল গান্ধী।
দুপুর ২টো ১৫-তে জামালপুরে জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর বিকেল ৩টে ৪৫-এ হাওড়ার শ্যামপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। বিকেল ৫টায় হাওড়াতেই রামরাজাতলা শংকর মঠ থেকে রোড শো করবেন অমিত শাহ। এরপর যাদবপুরে সন্ধ্যা ৬টা ১৫-তে রোড শো করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দুপুর ২টোয় উত্তরপাড়ায় সভা করবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এরপর দুপুর ৩টেয় উত্তর দমদম পুরসভার বণিক মোড় থেকে বিরাটি মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন মমতা। পরের পদযাত্রা রয়েছে বিকেল ৪টেয় ভবানীপুরে। বিকেল ৫টা ভবানীপুরে জনসভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সাড়ে ৫টায় ভবানীপুরেই অপর একটি জনসভা করবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বেহালা চৌরাস্তায় আরও একটি জনসভা রয়েছে মমতার।