বাংলায় বিজেপির ঠিক কী অবস্থা? জানালেন Axis My India-র প্রদীপ গুপ্তা

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এমডি প্রদীপ গুপ্তা জানিয়েছেন, কেন পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তাঁদের এগজিট পোল প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যে বিজেপির অবস্থান কী তা নিয়েও মতামত দেন তিনি।

Advertisement
বাংলায় বিজেপির ঠিক কী অবস্থা? জানালেন Axis My India-র প্রদীপ গুপ্তা প্রদীপ গুপ্তা
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এগজিট পোল সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে
  • একদিকে কিছু বুথ ফেরত সমীক্ষা ভারতীয় জনতা পার্টির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কেউ বলছে, তৃণমূল জিতবে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এগজিট পোল সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে কিছু বুথ ফেরত সমীক্ষা ভারতীয় জনতা পার্টির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কেউ বলছে, তৃণমূল জিতবে। প্রকৃত ফলাফল ৪ মে-ই জানা যাবে। এই প্রেক্ষিতে আজতক এগজিট পোল পরিচালনাকারী সংস্থার এমডি প্রদীপ গুপ্তার সঙ্গে কথা বলেছে।

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এমডি প্রদীপ গুপ্তা জানিয়েছেন, কেন পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তাঁদের এগজিট পোল প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যে বিজেপির অবস্থান কী তা নিয়েও মতামত দেন তিনি। তাঁর কথায়, 'এবার পশ্চিমবঙ্গে সমীক্ষা চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নে কথা বলতে রাজি হননি। কাকে ভোট দিয়েছেন, তা জিজ্ঞাসা করা তো দূরের কথা—অনেকেই সরাসরি সরি বলে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন।'


প্রাইভেসি টুলও ব্যর্থ

আজতকের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, আগে ট্যাবলেট বা স্ক্রিনের মাধ্যমে গোপনে উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকত। এ বিষয়ে গুপ্তা বলেন, এবার মানুষ সেই পর্যায়েও যেতে রাজি ছিলেন না। 

‘ভয়ের পরিবেশ’—কারণ কী?

গুপ্তা এই পরিস্থিতির নেপথ্যে একাধিক কারণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের সময় রাজ্যে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া হিংসা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং নেতাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করেছে। টিভিতে বারবার এসব দৃশ্য দেখানো হলে মানুষ অচেনা কারও সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক মতামত ভাগ করে নিতে দ্বিধা বোধ করেন। তার প্রভাব পড়েছে সমীক্ষার সময়ও। 

স্যাম্পল সাইজে প্রভাব

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সমীক্ষার স্যাম্পল সাইজে। সাধারণত প্রতি আসনে প্রায় ২০০ জনের সঙ্গে কথা বলার লক্ষ্য থাকে, কিন্তু এবার অনেক জায়গায় ৩০-৪০ জনের সঙ্গেও কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। কলকাতার মতো শহুরে এলাকায় ২০ জনের কাছেও পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

Advertisement

শহরে বেশি সমস্যা, গ্রামে কিছুটা স্বস্তি

তিনি জানান, শহরাঞ্চলে মানুষের সাড়া সবচেয়ে কম ছিল, যদিও গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো পরিস্থিতি ছিল। তবুও সার্বিকভাবে সমীক্ষার পরিসর সীমিতই থেকে যায়।

সমীক্ষা দলেরও সমস্যা

গুপ্তা বলেন, সমীক্ষা চালাতে গিয়ে তাঁদের টিম প্রশাসনিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়ে। কিছু সদস্যকে আটকও করা হয়েছিল এবং পরে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি মেলে।

ডেটা দিলেও অভিযোগ, না দিলেও অভিযোগ

গুপ্তরা মতে, এগজিট পোল নিয়ে সবসময়ই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তথ্য প্রকাশ করলেও প্রশ্ন ওঠে, আর না করলেও অভিযোগ হয়। তাঁর মতে, এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা উচিত।

বিজেপিকে ভয় পাওয়ার অভিযোগ খারিজ

তিনি এই অভিযোগও খারিজ করেন যে তাঁরা বিজেপিকে ভয় পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলেন, কেরলে বিজেপিকে ০-৩টি আসন এবং তামিলনাড়ুতে সীমিত আসন ও প্রায় ২৩ শতাংশ ভোট শেয়ার দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, যদি কোনও চাপ থাকত, তাহলে এমন তথ্য সামনে আসত না।

‘আমরা আন্দাজে কাজ করি না’

নিজেদের কাজের ধরণ নিয়ে গুপ্তা বলেন, তাঁদের সংস্থা কখনও অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করে না। দিল্লি নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পূর্বাভাস ফলাফলের কাছাকাছি ছিল। 

বিজেপির অবস্থান তুলনামূলক ভালো

ব্যক্তিগত মূল্যায়ন সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও তিনি জানান, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অবস্থান কিছুটা ভালো দেখাচ্ছে। তবে কে সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগে প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গুপ্তা বলেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।

ভোটের হার বাড়ল কেন?

ভোটের শতাংশ বৃদ্ধির কারণ নিয়েও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, অনেকেই বাইরে থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন। অনেকের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, ভোট না দিলে নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যার প্রভাব নাগরিকত্ব বা সরকারি প্রকল্পে পড়তে পারে। এছাড়াও মোট ভোটার সংখ্যা কমে গেলে ভোটের হার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

POST A COMMENT
Advertisement