‘ভোট করানো’র নেপথ্যে কারা? দক্ষিণ কলকাতায় গুন্ডা নেটওয়ার্ক নিয়ে আশঙ্কা

বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর বাস্তব বহুদিন ধরেই ঘুরে বেড়ায়, পেশিশক্তির রাজনীতি। ভোট এলেই যেন সেই ‘গুন্ডা’ সংস্কৃতি আবার সামনে চলে আসে। কেউ সরাসরি স্বীকার করুক বা না-করুক, বহু ক্ষেত্রে এই বাহুবলীদের উপস্থিতি নির্বাচনের অন্দরমহলের এক ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
‘ভোট করানো’র নেপথ্যে কারা? দক্ষিণ কলকাতায় গুন্ডা নেটওয়ার্ক নিয়ে আশঙ্কা
হাইলাইটস
  • বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর বাস্তব বহুদিন ধরেই ঘুরে বেড়ায়, পেশিশক্তির রাজনীতি।
  • ভোট এলেই যেন সেই ‘গুন্ডা’ সংস্কৃতি আবার সামনে চলে আসে।

বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর বাস্তব বহুদিন ধরেই ঘুরে বেড়ায়, পেশিশক্তির রাজনীতি। ভোট এলেই যেন সেই ‘গুন্ডা’ সংস্কৃতি আবার সামনে চলে আসে। কেউ সরাসরি স্বীকার করুক বা না-করুক, বহু ক্ষেত্রে এই বাহুবলীদের উপস্থিতি নির্বাচনের অন্দরমহলের এক ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময় মহুয়া মৈত্র মন্তব্য, “ওয়ান্স এ গুন্ডা, অলওয়েজ গুন্ডা”, নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে অমিত শাহ হুঁশিয়ারি, ফল ঘোষণার পর দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

কেন আবার আলোচনায় ‘গুন্ডা’ প্রসঙ্গ?
নির্বাচনের সময় রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ‘বাহুবলী’দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও জোরদার হয়। অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখানো, বিরোধী দলের কর্মীদের চাপে রাখা, কিংবা ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা, এসব কাজেই তাঁদের ব্যবহার করা হয়।

দক্ষিণ কলকাতার কিছু এলাকায় সাম্প্রতিক পোস্টার ছেঁড়া বা হুমকির মতো ঘটনাও সেই আশঙ্কাকে উস্কে দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ, তবুও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপে বিষয়টি বারবার সামনে আসছে।

রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও ‘বাহুবলী’ সংস্কৃতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক ক্ষমতা, তৃণমূল স্তরের সংগঠন এবং বিতর্কিত অতীত থাকা কিছু ব্যক্তির এক জটিল মেলবন্ধন। বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এই ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ও তৈরি করে ফেলেন।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নেয়। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’দের চিহ্নিত করে নজরদারি ও গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। লালবাজার সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ শাখা এই ধরনের অভিযান চালাচ্ছে এবং ভোট যত এগোবে, ততই কড়াকড়ি বাড়ানো হবে।

ভোটার তালিকা ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনীতি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকায় থেকে যাওয়ায় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে লক্ষাধিক নাম বাদ দিয়েছে, তবুও অতীতের অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সন্দেহ জিইয়ে রেখেছে।

Advertisement

এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কথায়, 'এখন ভুয়ো ভোটের সুযোগ কমে যাওয়ায়, ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রবণতা বাড়তে পারে।' অর্থাৎ কৌশল বদলালেও উদ্দেশ্য একই, ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করা।

প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, এই অদৃশ্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে নজরদারির মধ্যেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ফলে শুধু বাহিনী মোতায়েন নয়, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপই হয়ে উঠছে মূল অস্ত্র।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement