বাংলার নয়া প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?BJP-র জন্য বরাবরই পাখির চোখ ছিল বাংলা। কারণটা অবশ্যই, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান বলে। ফলে এবার বাংলায় ল্যান্ডস্লাইড জয়ের পর BJP তাদের মুখ্যমন্ত্রী মুখেও বড়সড় চমক আনতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় প্রচারের সময়েই একাধিকবার বলেছিলেন, 'BJP-র মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই বাংলারই ভূমিপুত্র। যিনি নিজে বাঙালি এবং বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছেন।'
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, 'বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন আমিষভোজী।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাছ বন্ধ হয়ে যাবে' অভিযোগ কাউন্টার করতেই এমনটা বলেছিলেন সুকান্ত। এবার বঙ্গ জয় করে ফেলার পর BJP-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
আঞ্চলিক দলগুলির মতো BJP কখনওই মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে ভোটের প্রচারে নামে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই দলের USP।
গত এক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় কথা বলেছেন, এমনকী, বাংলার খাবার খেয়েছেন। তাঁকে দেখা গিয়েছে, বাংলার OG স্ন্যাক ঝালমুড়ি খেতে। গিয়েছেন কালী মন্দিরে, যেখানে প্রধান প্রসাদ আমিষ। সিকিমে গিয়েও বাংলার প্রিয় খেলা ফুটবলে মেতেছিলেন তিনি। আর বাঙালিয়ানায় মেতে থাকা এই ব্র্যান্ড মোদীতেই ভরসা করেছেন বাংলার মানুষ।
কিন্তু মোদীর এই বাঙালিয়ানাকে বাংলায় কে এগিয়ে নিয়ে যাবেন? যেহেতু মহিলা সুরক্ষাকে BJP বাংলায় প্রচারের অন্যতম ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়েছিল, তাই মহিলা মুখ্যমন্ত্রীও বেছে নিতে পারে এই দল। একমাত্র দিল্লিতেই রয়েছে BJP-র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ঝামেলার মধ্যে BJP বাংলায় কোনও মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে বড় চমক দিতেই পারে।
মহিলা নেত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় অগ্নিমিত্রা পল এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এ ছাড়াও BJP-র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন অবশ্যই শুভেন্দু অধিকারী, BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, নিশীথ প্রামাণিক এবং স্ট্রংম্যান দিলীপ ঘোষ।
শুভেন্দু অধিকারী
একসময়কার তৃণমূল নেতা এবং মমতার ঘনিষ্ট শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় দাবিদার। BJP-র সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ বাংলায় তিনিই। তৃণমূল স্তরে সংগঠনের জোর রয়েছে তাঁর। রয়েছে বড় নেটওয়ার্কও। মেদিনীপুর বেল্ট তাঁর শক্ত গড়।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি জায়ান্ট কিলার হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে ১০ হাজারের বেশি ভোটে তিনি নন্দীগ্রামে হারিয়েছেন TMC-র পবিত্র করকে। পাশাপাশি ভবানীপুরেও কাউন্টিংয়ের শেষলগ্ন পর্যন্ত তিনি কট্টর টক্কর দিচ্ছেন।
তবে নারদা স্টিং অপারেশনে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। অন ক্যামেরা ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
শমীক ভট্টাচার্য
নবনির্বাচিত BJP রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য RSS-এর সদস্য ছিলেন। এবারের জয়ের নেপথ্যে বড় অবদান রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হলেও তিনিও মুখ্যমন্ত্রী পদের বড় দাবিদার।