ফাইল ছবিবিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিত অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এমন কেউ হবেন যিনি বাংলারই সন্তান, এখানে বড় হয়েছেন এবং বাংলার ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এই মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ভোটের আগেই।
শপথ হতে পারে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর দিন, নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবুও দিনটিকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
কারা রয়েছেন দৌড়ে?
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে চারটি নাম বিশেষভাবে উঠে আসছে-
শুভেন্দু অধিকারী
শমীক ভট্টাচার্য
উৎপল ব্রহ্মচারী
স্বপন দাশগুপ্ত
এই চারজনের প্রত্যেকের পক্ষেই দলের ভিতরে আলাদা আলাদা যুক্তি রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী: সবচেয়ে এগিয়ে?
সবচেয়ে জোরালো জল্পনা ঘিরে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এই নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই লড়েছেন এবং জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে, ভবানীপুরে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে জয় তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বাড়িয়েছে।
দলের একাংশের মতে, মমতাকে একাধিকবার পরাজিত করার রেকর্ড এবং তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
শমীক ভট্টাচার্য: সংগঠনের স্থপতি
অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছেন। তাঁর শান্ত স্বভাব, বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা দলের ভেতরে বড় ফ্যাক্টর। ‘পুরনো’ ও ‘নতুন’ বিজেপি কর্মীদের এক মঞ্চে আনার কৃতিত্বও অনেকেই তাঁকেই দিচ্ছেন।
উৎপল ব্রহ্মচারী: আরএসএস ঘনিষ্ঠ মুখ
উৎপল ব্রহ্মচারী, যিনি ‘উৎপল মহারাজ’ নামেও পরিচিত, তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও আরএসএস ও সংগঠনের অন্দরমহলে যথেষ্ট প্রভাবশালী। কালিয়াগঞ্জ থেকে তাঁর বড় ব্যবধানে জয় তাঁর জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দেয়।
স্বপন দাশগুপ্ত: বুদ্ধিজীবী মুখ
স্বপন দাশগুপ্তও আলোচনায় রয়েছেন তাঁর বুদ্ধিজীবী ভাবমূর্তি ও জাতীয় স্তরের অভিজ্ঞতার কারণে। নীতিগত প্রশ্নে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা। তবে স্পষ্ট, দলের ভিতরে একাধিক শক্তিশালী মুখ থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। এখন নজর ৯ মে-র দিকে, সেই দিনই কি স্পষ্ট হবে বাংলার নতুন নেতৃত্বের নাম?