স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়ে মমতা শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রং-রুমে কেন গিয়েছিলেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর রাত ১২ টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে কারণ জানালেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং-রুম থেকে অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি নিশ্চিত হতে এখানেও এসেছিলেন। তাঁর সাফ কথা, 'আমি প্রয়োজনে জীবন দিয়ে লড়ে যাব কিন্তু EVM লুটতে দেব না।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এদিন তাঁকে প্রথমে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে আটকে দিয়েছিল। তবে পরে তিনি প্রবেশ করতে পারেব। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, 'আমাকে তো দেখতে হবে মানুষ যে ভোট দিয়েছে তা সুরক্ষিত আছে কি না। এটা আমার কাজ। আমার কাছে অভিযোগ এসেছে বলেই এসেছিলাম। EVM কারচুপির আশঙ্কা তো আছেই। কারণ এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য পুলিশকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ওরা তো এখন কমিশনের হাতে। এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমি এটা নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না।'
মমতার আরও দাবি, তিনি নানা জায়গা থেকে খবর পেয়েছেন EVM-এ কারচুপি হচ্ছে ও বাইরের লোকজন এসে তা খুলছে। সেজন্য তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তাও দেন।
মমতা আরও বলেন, 'রাজনীতি প্রতিদিন চলবে। কিন্তু মানুষের গণতন্ত্র রক্ষিত হওয়া দরকার। সেই ভোট ঘোষণার পর থেকে আমাদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। অনেক এজেন্টকে অপদস্থ করা হয়েছে। যদি কেউ এরপর কাউন্টিংকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে তাহলে ছেড়ে কথা বলা হবে না। ইভিএমে কারচুপির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।'
এখানে বহিরাগত আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর সংযোজন, 'এখানে বাইরে থেকে বিজেপি লোক এনেছে। সব গুজরাতের। আমাদের তার দরকার পড়ে না। আমাদের এখানেই বাড়ি। এক ডাকে ১০ হাজার লোক চলে আসবে। কিন্তু আমরা ওসব করি না।'
এরপর রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।