অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষ।-ফাইল ছবিবুধবার কলকাতায় বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সল্টলেকের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আমন্ত্রিতদের তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম ছিল প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপির অন্দরে এই উপস্থিতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং বিশেষ করে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর থেকেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। সেই আবহেই গত কয়েক মাসে দলের একাধিক বড় কর্মসূচি কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফর, কোনও ক্ষেত্রেই তাঁকে দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, দলীয় দূরত্ব মেটানোর উদ্যোগ কি এবার বাস্তব রূপ নিতে চলেছে?
উল্লেখ্য, অমিত শাহ বর্তমানে তিনদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। তবে সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
কিন্তু বুধবারের সাংসদ ও বিধায়কদের বৈঠকে তাঁর আমন্ত্রণ এবং উপস্থিতি থেকেই প্রশ্ন উঠছে, দলের অন্দরের ক্ষোভ ও বিভাজন মেটাতেই কি অমিত শাহের এই উদ্যোগ?
এদিন দুপুরে সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে অমিত শাহের। এরপর বিকেলে ঠনঠনিয়া কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর শহর ছাড়ার সূচি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তার আগেই দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ মেরামতির বার্তা দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দিলীপ ঘোষকে ফের দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, নাকি তা নিছকই সৌজন্যমূলক, সে উত্তর দেবে সময়ই। তবে আপাতত স্পষ্ট, বঙ্গ বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে দিল্লির নেতৃত্ব আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়।