দিলীপ ঘোষ।-ফাইল ছবিআমরা বারবার ডিম্যান্ড করেছি যাতে বুথের ভিতর বাহিনী থাকে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুঠপাট হয় বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল। ভোটের আগেই বুথের ভিতরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের। দায়িত্ব পেয়েই দিলীপ ঘোষের বড় প্ল্যান রেডি।
নতুন বছর পড়তেই বাংলায় বিধানসভা ভোটের কাউনডাউন শুরু হয়ে গেছে। ২৬-এর নির্বাচন আসতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তারই মাঝে বঙ্গ বিজেপিতে আচমকা সক্রিয় বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পরই তিনি আবারও স্বমেজাজে ফিরেছেন। আর তারই মধ্যে ভোটে এবার বুথের ভিতর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সুর চড়ালেন তিনি।
৫ জানুয়ারী, সোমবার রাজ্য বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা নিয়ে দিল্লির নির্বাচন সদনে খুবই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। শোনা যাচ্ছে এবার বুথের ভিতরেও নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন থাকবে। এতদিন যেখানে বাইরে দাঁড়াতো, এবার যেখানে ভোট পড়বে সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, 'আমরা বারবার ডিম্যান্ড করেছি যাতে বুথের ভিতর বাহিনী থাকে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুঠপাট হয় বুথের ভিতরে হয়। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল।'
শুক্রবার দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, একা শুভেন্দুকে দিয়ে হবে না বুঝেই কি আপনাকে স্বমহিমায় ফেরাল দলের হাইকম্যান্ড? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, 'পার্টি তো কোনও একক ব্যক্তির ভরসায় চলতে পারেনা। কিছু প্রমিনেন্ট মুখ থাকে যাদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও একজন গোটা পশ্চিমবঙ্গ জিতিয়ে দেবে সেটা সম্ভব নয়।
এরপরই প্রশ্ন করা হয় আপনার তো এমন দুর্দিনও গেছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসেছেন আর আপনাকে বিমান ধরে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'হতে পারে। পার্টি এক্সপেরিমেন্ট করে মাঝে মাঝে। আগে তো ভোটে লড়তে হয়নি। তখন দল ভেবেছিল একেকটা মুখকে একেকবার সামনে আনি। দেখি পাবলিক কিভাবে রিয়াক্ট করে। মাঝে কিছুদিন সেই প্রক্রিয়া চলেছে।
হুমায়ূন যদি সংখ্যালঘু ভোট কাটার ভূমিকায় নামেন তাহলে তো আপনাদের অ্যাডভান্টেজ? এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'গতবার আইএএফ নিয়েও আপনারা একই ভাবে বিস্তর চর্চা করেছিলেন। রেজাল্ট কী হল? আমার মনে হয় ওই দলের সঙ্গে কোনও না কোনও পার্টির সেটিং হবে। গতবার নওশাদ সিদ্দিকি বড় বড় সভা করেছিল। আর হুমায়ূন কবীর এখনও পর্যন্ত নিজের এলাকা ছেড়ে বেরোননি।' তার পার্টির কী ভবিষ্যত? 'উনি সকালে একরকম বলেন। বিকেলে আরেক রকম। মানুষ তো এইভাবে বিশ্বাস করবে না। উনি আগে ওঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন। উনি জল মাপছেন। দাম বাড়াচ্ছেন।'
সংবাদদাতা- অরিন্দম ভট্টাচার্য