বিজেপির হাবড়ার প্রার্থী রাহুল সিনহাভোটে লড়ার তাঁর কাছে নতুন নয়। এ ব্যাপারে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাঁর। ইতিমধ্যে সাত-সাতবার লড়েছেন। বিধানসভা ও লোকসভায়। কিন্তু সাফল্য আসেনি।
তবে সাফল্য না-পেলেও তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। একের পর এক নির্বাচনী বিপর্যয়। তবে রাজনীতির ময়দান থেকে মুখ ফেরাননি তিনি।
যাকে নিয়ে এত চর্চা তিনি বিজেপির রাহুল সিনহা। ২০১৯ সালে কলকাতা উত্তর থেকে লোকসভা ভোটের পর ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট। এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
ভোটের ময়দানে
শুক্রবার প্রচারের ফাঁকে কথা হচ্ছিল রাহুল সিনহার সঙ্গে। জানালেন জিততে না পারলেও কেন তিনি ভোটের ময়দানে থেকে সরতে রাজি নন। আর কোথা থেকে আসে ভোটে লড়ার উৎসাহ।
জেতার সময়
যখন এ রাজ্যে তাঁর দলকে দলের প্রতীক কেউ চিনতেন না, তখন থেকে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। এতদিন ধরে দলকে তৈরি করেছেন, একটা কাঠামো দিয়েছেন এখন জেতার সময়। গত কয়েক বছর ধর সে প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মানুষ বিজেপিকে প্রবল ভাবে ভরসা করছেন।
আগের দায়িত্ব
তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। এরই ফাঁকে লড়েছেন ভোটেও। সাফল্য না পেলেও ধৈর্য হারানি। অনেকটা রবার্ট ব্রুসের মত। একটা মাকসড়ার অপরিসীম ধৈর্য দেখে প্রাণিত হয়েছিলেন।
কঠিন লড়াই
এবার যেখান থেকে লড়ছেন, সেটা তো তৃণমূলের শক্তি ঘাঁটি? রাহুল বলেন, কিছু শক্ত নেই। সব চুরমার হয়ে গিয়েছে। চাল চুরি, আমফানে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। দুর্নীতি, কুশাসেন সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এখানকার যিনি প্রার্থী, তাঁর ব্যবহারের মানুষ বিরক্ত।
তাঁর দাবি, তৃণমূল হারছে, সেটা বুঝতে পেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রায় বাহিনী, বাড়ি বাড়ি ঘেরাও কর- না হলে এসব কেউ বলত না। তার মানে সঙ্কটের আর শেষ নেই। বাঁচার চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের সমালোচনা করেন তিনি। রাহুল বলেন, মানুষের রায়কে ঘেরাও করে বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূলের যাওয়ার ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।
দলের বিস্তার
কথা বলছিলেন দলের বিস্তার নিয়ে। তিনি বলেন, বিজেপি তৈরির সময় আমরা যাঁরা পার্টি তৈরি করেছি, তখন ছিল পার্টির চিহ্ন চেনানোর লড়াই, জামানত বাঁচাবোর লড়াই। সাতবার লড়েও জামানত যায়নি। এটাই বড় পাওনা। জেতার সময় তো এল ২০১৬ সালের বিধানসভা, ২০১৯ সালের লোকসভা থেকে। আগে বিজেপি জিতবে বললে লোকে তো হাসত!
আগের সাফল্য
এর আগে বিজেপি সাফল্য পেয়েছে। তবে একক ভাবে নয়। তখন সঙ্গী ছিল তৃণমূল। সে নিয়ে তিনি বলেন, বাদল ভট্টাচার্য অশোকনগরে থেকে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন। আমাদের প্রথম বিধায়ক। তবে সেটা তৃণমূলের সহযোগিতা। বিজেপির একক শক্তিতে জেতেনি। ২০১৬ সালে ৩টি সিট জিতেছি। সেখান থেকে কিছুটা শুরু। তাঁর দাবি, মূর্তি ভাঙার ষড়যন্ত্র না করলে ২০১৯ সালে লোকসভা জিততাম। আগের লড়াই তো চিহ্ন চেনানোর লড়াই ছিল। সে সময়ের লড়াই জেতার লড়াই ছিল না।
সব কিছু দলেই
একের পর এক ভোট হার। তারপরও ভোটে দাঁড়ানোর উৎসাহ পান কোথা থেকে? তিনি বলেন, দলের আদর্শকে ভালবাসি। রোজগারের জন্য তো পার্টি করি না। ওঁরা কাটমানির জন্য পার্টি করে। আমরা সঙ্কটে থাকলেও দলে ছিলাম। রাগ হলে এখানে হয়। আবার মিটেও যায়। আসল জিনিস হল যাঁর ভেতরে আদর্শ থাকবে, তিনি সব সময় টিকে থাকবেন।