মাহাবুরগোটা রাজ্যে থেকে দিনভর নানা ঘটনা উঠে আসে। তার মধ্যে কোনও কোনও ঘটনা তো রীতিমতো চাঞ্চল্য ফেলে দেয় বিভিন্নমহলে। তবে এই প্রতিবেদনে এমন একটি ঘটনা জানাব যা হয়ত আপনাদের চোখ কপালে তুলে দিতে পারে। ভাবছেন কী সেই ঘটনা? চলুন খোলসা করেই বিষয়টা জানাই আপনাদের।
প্রতিবেশীকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, সরকারি আবাস যোজনার ঘর পেয়ে তাতে বসবাস করছে বাংলাদেশি যুবক, অভিযোগ এমনটাই। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট থানার নিমদাঁড়িয়া কোদালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুরে। বিষয়টি নিয়ে গত তিন বছরে নারায়ণপুরের বাসিন্দা জিয়াদ আলি দফাদার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বেশ কয়েকবার। তারপরেও বাংলাদেশি যুবক মাহাবুর দফাদারের বাবা হিসেবে জিয়াদ আলি দফাদারের নাম থেকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের বসিরহাটের প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন জিয়াদ আলি দফাদার।
প্রসঙ্গত, বছর ১৫ আগে বসিরহাট থানার নারায়ণপুর গ্রামে এসে ওঠে বাংলাদেশি মাহাবুর দফাদার। প্রথমে ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ শুরু করে সে। প্রতিবেশী জিয়াদ আলি দফাদারের স্ত্রী ভাটায় কাজ করতেন। অভিযোগ, পরিচয় হওয়ার পর জিহাদ আলি দফাদারের স্ত্রীর কাছ থেকে পরিচয় পত্র হাতিয়ে নিয়ে জিহাদ আলি দফাদারকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র তৈরি করে মাহাবুর। ইতিমধ্যেই আবাস যোজনার ঘর পেয়ে তাতে বসবাসও করছে মাহাবুর দফাদার। বছর তিনেক আগে জিয়াদ আলি দফাদার জানতে পারেন, তাঁকে বাবা বানিয়ে মাহাবুর ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করেছে। প্রতিবাদ করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এসডিও, বিডিও, থানা সমস্ত জায়গায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জিয়াদ আলি দফাদার। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। ভোটার লিস্টে মাহবুরের নামের পাশে পিতা হিসেবে জিয়াদ আলি দফাদারের নাম রয়ে গিয়েছে।
জিয়াদ আলি দফাদার বলেন, মাহাবুর দফাদার আমার কোনও ছেলে নয়, সে একজন বাংলাদেশি। এখানে এসে আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর, আমার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ব্যবহার করে আমাকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড তৈরি করেছে। ওই ছেলে আমি রাখতে চাই না। ও বাংলাদেশের বিদায় হোক, তাই এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আমি আবারও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।
এই পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারকে নিয়ে বসিরহাট বিজেপি কার্যালয়ে হাজির হন জিয়াদ আলি দফাদার। বিষয়টি জানার পর বসিরহাটের বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে জিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ফের মহকুমা শাসক ও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, এই সমস্ত বাংলাদেশিরা শাসকদলের মদতে ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে, সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। এদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাহাবুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও, তার স্ত্রী জানায় যে স্বামী একজন বাংলাদেশি। সে এও জানায় প্রতিবেশী জিহাদ আলি দফাদারকে বাবা সাজিয়ে তার স্বামী ভোটার আই কার্ড তৈরি করেছে।