স্বপ্না বর্মণজল্পনা ছিল আগে থেকেই। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথেলনে সোনা জেতা স্বপ্না বর্মণ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখানেই তিনি অর্জুন পুরষ্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। মঞ্চেই তাঁদের কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। যা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
অনুষ্ঠান শেষে সেই সময়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বপ্না বর্মণ বলেছিলন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তবে তিনি সেগুলো তখনই বিস্তারিত বলেননি। তারপর থেকেই জল্পনা ছিল তিনি রাজনীতিতে নাম লেখাবেন। আপাতত সেই জল্পনাই বাস্তব হতে চলেছে। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন এই অ্যাথলিট।
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বপ্না বর্মণ। এর আগে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করতে পারে বলে খবর রটেছিল। স্বপ্না বর্মণ ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন। পীঠে ব্যথার কারণে তারপরই তিনি অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে স্বপ্না নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের কর্মী।
তৃণমূলে স্বপ্নার যোগ দেওয়ার পর চক দে ইন্ডিয়া ও দঙ্গল সিনেমার কথা তুলে ধরে বিজেপিকে বিঁধেছেন ব্রাত্য বসু। মহিলা কুস্তীগিরদের উপর হওয়া নির্যাতনের অভিযোগ ফের সামনে এনেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। স্বপ্না আজ স্বপ্নের দৌড়ে সামিল হল বলে জানান ব্রাত্য। কীভাবে নিজের কেরিয়ার গড়েছেন স্বপ্না সেটাই ফের তুলে ধরেন প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। রাজবংশী সম্প্রদায়ের স্বপ্নাকে দলে নিয়ে এসে বড় চমক দিল তৃনমূল। উত্তরবঙ্গে তৃনমূলের আসন কমেছে। সেই কারণেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের এই তারকাকে দলে নিয়ে বিজেপি-র উপর চাপ বাড়াল তৃনমূল।
স্বপ্না বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হই। সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে যেভাবে তিনি বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। যেভাবে তিনি নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন তা দেখে মনে হয়েছে, উন্নয়ন করতে পারবে এই দলই। সে কারণেই যোগ দিলাম।'
২০১৮ এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলন ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না। স্বপ্নার বাবা ছিলেন রিকশাচালক, পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খুব আর্থিক কষ্টের মধ্যে বড় হয়ে নিজেকে এশিয়ার সেরা অ্য়াথলেট হিসাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে সফল হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, এশিয়ান গেমসে জোড়া সোনাজয়ী দৌড়বিদ জ্য়োর্তিময়ী সিকদার সিপিএমের হয়ে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন।